নীলফামারীতে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী ও সমর্থক বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছেন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) রাতে নীলফামারী সদর উপজেলার টুপামারী ইউনিয়নের মডেল মসজিদ সংলগ্ন ৮ নম্বর ওয়ার্ড এলাকায় আয়োজিত জামায়াতের নির্বাচনী পথসভায় তারা আনুষ্ঠানিকভাবে দলটিতে যোগ দেন।

পথসভায় যোগদানকারী নেতাকর্মীদের ফুল দিয়ে বরণ করে নেন নীলফামারী-২ আসনে জামায়াত মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী আলফারুক আব্দুল লতিফ।

জামায়াতে যোগদানকারীদের মধ্যে রয়েছেন টুপামারী ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সভাপতি সহিদুল ইসলাম, সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সালাম, সাবেক সভাপতি আউয়াল হোসেন এবং সাবেক ছাত্রদল কর্মী সোহেল ইসলামসহ অর্ধশতাধিক বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থক।

এ সময় বক্তব্যে জামায়াত প্রার্থী আলফারুক আব্দুল লতিফ বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের ভেতরে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে প্রায় ৫০ জন নেতাকর্মী ও সমর্থক বিএনপি ছেড়ে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন। তিনি বলেন, জামায়াতের আদর্শ ও জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনায় উদ্বুদ্ধ হয়ে তারা দুর্নীতি ও চাঁদাবাজিমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার অঙ্গীকার করেছেন।

অন্যদিকে, এ ঘটনায় ভিন্নমত জানিয়েছে জেলা বিএনপি। নীলফামারী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মীর সেলিম ফারুক বলেন, বিএনপির কোনো ত্যাগী নেতাকর্মী বা সমর্থক জামায়াতে যোগ দিয়েছেন—এমন তথ্য তাদের জানা নেই। তিনি দাবি করেন, নীলফামারী সদরে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের খালাতো ভাই ইঞ্জিনিয়ার শাহরিন ইসলাম চৌধুরী তুহিন এবং তার পক্ষে দলের নেতাকর্মীরা সক্রিয়ভাবে মাঠে কাজ করছেন।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির প্রার্থী বিপুল ভোটে বিজয়ী হবেন—এটি বুঝতে পেরেই কেউ হয়তো সাজানো ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করছেন। তবে বিএনপির কোনো নেতাকর্মী দল ছেড়ে যাননি বলে তিনি দাবি করেন।