রাজশাহীর তানোরে গভীর নলকূপের জন্য খোঁড়ানো গর্তে পড়ে যাওয়া দুই বছরের শিশু স্বাধীনকে জীবিত ফিরিয়ে আনার আশায় কাটল এক দীর্ঘ, নিদ্রাহীন রাত। বিকেল থেকে শুরু হওয়া উদ্বেগের মুহূর্ত পেরিয়ে সন্ধ্যা, গভীর রাত, আর রাত গড়িয়ে সকাল হলেও শিশুটির কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বৃহস্পতিবার সকালেও শিশুর পরিবার ও উদ্ধারকারী দলের উপর নেমে এসেছে অবর্ণনীয় দুশ্চিন্তা।
সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়—অপেক্ষা আর কান্নায় ভেঙে পড়েছেন শিশু স্বাধীনের মা রুনা খাতুন। গর্তের কাছে বসে তিনি বারবার বিলাপ করে বলছেন, “আল্লাহ, আমার ছাওয়ালরে কাইড়া নিও না... আল্লাহ, কত কষ্ট করে মানুষ করছি… তুমি আমার বুকে ফিরায় দাও আল্লাহ।” মায়ের এই আহাজারি থাকা সবার হৃদয় ভারী করে তুলছে।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (১০ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে তানোর উপজেলার পাচন্দর ইউনিয়নের কোয়েলহাট পূর্বপাড়ায়। স্বাধীন ওই এলাকার রাকিব উদ্দীনের ছেলে। বাড়ির পাশেই দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত অবস্থায় থাকা গভীর নলকূপের সরু গর্তে হঠাৎ করেই পড়ে যায় শিশু। পরিবারের আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধার চেষ্টা শুরু করলেও পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় কিছুক্ষণ পর পৌঁছায় ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা।
রাতভর তারা বিভিন্ন সময় গর্তে ক্যামেরা নামিয়ে শিশুটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করেন। কিন্তু ওপর থেকে পড়া মাটি, খড় ও আবর্জনায় বাধা পেয়ে ক্যামেরায় কোনো দৃশ্য ধরা পড়েনি। তবে দুপুরে শিশুটির কান্না শোনা গেলেও সন্ধ্যার পর আর কোনো শব্দ পাওয়া যায়নি।
বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত উদ্ধার সম্ভব না হলেও অভিযান থামেনি। ভোর থেকেই শুরু হয়েছে গর্তের পাশ দিয়ে নতুন সুড়ঙ্গ খননের কাজ। সকাল হতে না হতেই এলাকাজুড়ে ভিড় জমেছে শত শত উৎসুক মানুষের, যাদের সরাতে বেগ পেতে হচ্ছে পুলিশকে।
তানোর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাঈমা খান বলেন, “গর্তের বেশির ভাগ অংশ খনন করা হয়েছে। এখন সুড়ঙ্গ তৈরি করে মই নামিয়ে নিচে পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। উদ্ধারকাজ পুরোপুরি সচল রয়েছে।”
স্বাধীনকে জীবিত ফিরে পেতে অপেক্ষা করছে পুরো গ্রাম। আর মা রুনা খাতুনের চোখে শুধু একটাই প্রার্থনা—ছেলে যেন আবার তার বুকে ফিরে আসে।