আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে রাঙামাটির দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলের ভোটকেন্দ্রগুলোতে নির্বাচনী প্রস্তুতি সম্পন্ন করতে আকাশপথের সহায়তা নেওয়া হয়েছে। জেলার চারটি উপজেলার মোট ২০টি দুর্গম ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারের মাধ্যমে ব্যালটসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম এবং নির্বাচন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাঠানো হয়েছে। এতে পাহাড়ি এলাকার হেলিসর্টি কেন্দ্রগুলোর সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত দুই দিনে রাঙামাটির চার উপজেলার ১৪টি ভোটকেন্দ্রে হেলিকপ্টারে করে ভোটের সরঞ্জাম ও দায়িত্বপ্রাপ্ত জনবল পৌঁছে দেওয়া হয়। এর ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বাঘাইছড়ি, জুরাছড়ি ও বিলাইছড়ি উপজেলার আরও ছয়টি দুর্গম ভোটকেন্দ্রেও একইভাবে সরঞ্জাম ও লোকবল পাঠানো হয়। সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা নিশাত শারমিন জানান, এর মাধ্যমে পাহাড়ি ও যোগাযোগবিচ্ছিন্ন সব ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণের প্রস্তুতি শতভাগ সম্পন্ন হয়েছে।

উপজেলা ভিত্তিক হিসাব অনুযায়ী, বাঘাইছড়িতে রয়েছে ছয়টি, বরকলে দুটি, জুরাছড়িতে সাতটি এবং বিলাইছড়িতে পাঁচটি দুর্গম ভোটকেন্দ্র। এসব কেন্দ্রে মোট ভোটার সংখ্যা ৩৩ হাজার ৫৪৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৯০২ জন এবং নারী ভোটার ১৫ হাজার ৬৪১ জন।

নির্বাচনকে ঘিরে জেলার সামগ্রিক নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ৩ হাজার ৪০০ জন সেনাসদস্য, ৩৭ প্লাটুন বিজিবি, ১ হাজার ৫৯৫ জন পুলিশ এবং ২ হাজার ৭৬৯ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে তদারকির জন্য ১৫ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত থাকবেন।

নির্বাচন কর্মকর্তারা জানান, রাঙামাটির ৩৬টি ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নেটওয়ার্ক সুবিধা নেই এবং ৬৫টি কেন্দ্রে বিদ্যুৎ সংযোগ অনুপস্থিত। এসব কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ শেষে ফলাফল সংগ্রহ ও প্রেরণে বিকল্প ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। জেলার ২১৩টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৭০টিতে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।

এবার রাঙামাটি সংসদীয় আসনে মোট সাতজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। জেলার ১০টি উপজেলায় মোট ২১৩টি ভোটকেন্দ্রে প্রায় ৫ লাখ ৯ হাজার ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন বলে নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে।