মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনে জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে স্বতন্ত্র ও বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সদর উপজেলার চরাঞ্চলের শিলই ইউনিয়নে সংঘটিত এই ঘটনায় অন্তত চারজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় কিছু সময়ের জন্য উত্তেজনা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, পরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ছয়টার দিকে শিলই ইউনিয়নের পূর্ব রাকিরকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ভোটকেন্দ্রের আশপাশে এ সংঘর্ষ ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মহিউদ্দিনের সমর্থকদের ওপর প্রতিপক্ষের লোকজন অতর্কিত হামলা চালায়। এতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর চারজন সমর্থক আহত হন। আহতরা হলেন পূর্ব রাকিরকান্দি গ্রামের ইকবাল হোসেন (৩৮), মো. জয় (২৮), জুয়েল শেখ (৪০) ও আব্দুল জব্বার (৫৩)। তাদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার বিকেলে ভোটকেন্দ্রের মাঠে স্বতন্ত্র প্রার্থীর কয়েকজন সমর্থক অবস্থান করছিলেন। ওই সময় সন্ধ্যার দিকে বিএনপি-সমর্থিত একটি পক্ষ জাকির হোসেনের নেতৃত্বে সেখানে উপস্থিত হয়ে তাদের সঙ্গে বাগ্‌বিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সংঘবদ্ধ হামলার ঘটনা ঘটে। এতে এলাকায় চরম উত্তেজনা সৃষ্টি হয় এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

হামলার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি নেতা জাকির হোসেন জমাদ্দারের অনুসারীদের দায়ী করা হলেও তিনি অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার দাবি, তিনি বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকায় যেকোনো ঘটনার দায় তার ওপর চাপানো হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, দুই পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তি হয়েছে এবং উভয় দিকেই কিছু লোক আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে সদর উপজেলা যুবদলের সদ্য বহিষ্কৃত সদস্য সচিব সোহাগ বলেন, তারা কয়েকজন নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়িয়ে থাকাকালে হঠাৎ করে ধানের শীষের সমর্থক ৩০ থেকে ৪০ জন দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। আহত জয় ব্যাপারী দাবি করেন, নির্বাচনী প্রচারের সময় শেষ হওয়ায় তারা একটি মিছিল করতে বাধা দিলে হামলার ঘটনা ঘটে।

মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মমিনুল ইসলাম জানান, উভয় পক্ষের মোট পাঁচ থেকে ছয়জন আহত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছে। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।