গাজীপুরে একটি পরিত্যক্ত গরুর খামারে দীর্ঘদিন ধরে রাতের আঁধারে ঘোড়া জবাই করে মাংস বিক্রি করা হচ্ছিল। খবর পেয়ে শনিবার (২৪ জানুয়ারি) ভোরে পুলিশ ঘটনাস্থলে অভিযান চালিয়ে জবাই করা ঘোড়ার বিপুল পরিমাণ মাংস জব্দ করেছে। একই সঙ্গে ১১টি ঘোড়া জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের আগে চক্রের সদস্যরা পালিয়ে গেছে।
ঘটনাস্থল ছিল জেলার কাপাসিয়া উপজেলার দুর্গাপুর ইউনিয়নের মাশক গ্রামে। স্থানীয়রা জানান, ওই গ্রামের বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর তার পরিত্যক্ত খামারে খুলনা থেকে আসা আনিসুর রহমানের সহায়তায় ১৬টি ঘোড়া নিয়ে আসেন। গভীর রাতে চারটি ঘোড়া জবাই করার সময় আশপাশের লোকজন সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড দেখতে পান এবং পুলিশে খবর দেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে জবাইকৃত ঘোড়া ও মাংস উদ্ধার করে।
কাপাসিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এ কে এম আতিকুর রহমান ঘটনাটি নিশ্চিত করে বলেন, “পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে জবাইকৃত ঘোড়া ও মাংস উদ্ধার করেছে। জীবিত ঘোড়াগুলো বর্তমানে স্থানীয়দের হেফাজতে রাখা হয়েছে। উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের ভেটেরিনারি সার্জন ইতোমধ্যে তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করেছেন।”
তিনি আরও জানান, “বাংলাদেশে ঘোড়া জবাই করা আইনত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মাংস বিক্রির উদ্দেশ্যেই ঘোড়াগুলো জবাই করা হচ্ছিল। এটি একটি গুরুতর অপরাধ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
কাপাসিয়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শাহীনুর আলম বলেন, “খবর পেয়ে আমরা ঘটনাস্থলে যাই। অভিযুক্তরা পুলিশের আগমনের আগে পালিয়ে গেছে। উদ্ধার করা মাংস ঘটনাস্থলে পুঁতে ফেলা হয়েছে। প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর অভিযোগ করলে আমরা পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা নেব। আমাদের লক্ষ্য যেকোনো ধরনের অবৈধ পশুপালন ও জবাই কার্যক্রম প্রতিরোধ করা।”
এ ঘটনায় স্থানীয়রা আতঙ্ক প্রকাশ করেছেন এবং প্রশাসনের কাছে দ্রুত ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। পুলিশ ও প্রাণিসম্পদ দপ্তর এ ধরনের কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে বন্ধ রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।