ঝালকাঠি-২ আসনের সদর উপজেলার কৃত্তিপাশা ইউনিয়নের বেশাইনখান গ্রামে সোমবার রাতে জামায়াতে ইসলামীর দুই কর্মীর দুটি দোকানে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুদি ব্যবসায়ী হানিফ মোল্লা ও হাবিব মোল্লা নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে এলাকায় সক্রিয় থাকায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা গভীর রাতে তাদের দোকানে আগুন ধরিয়ে দেয়।
অগ্নিকাণ্ডে দোকানভিত্তিক মালামাল সম্পূর্ণরূপে পুড়ে যায়। সকালে স্থানীয়রা দোকানের অবস্থা দেখে প্রশাসনকে খবর দেয়। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন ঝালকাঠি সদর থানার পুলিশ। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা হয়নি।
ঝালকাঠি-২ আসনের জামায়াত ও জোট প্রার্থী এস এম নেয়ামুল করিম সাংবাদিকদের জানান, “নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে ভয় ও উৎকণ্ঠা সৃষ্টি করতেই আমাদের কর্মীদের দোকানে আগুন দেওয়া হয়েছে। আমাদের সমর্থক ও কর্মীদের ওপর আগেও হামলা ও হুমকি চলছিল। এই ধরনের ঘটনার মাধ্যমে জনগণের রায় পরিবর্তন করা সম্ভব নয়। প্রশাসন যেন দ্রুত দোষীদের গ্রেপ্তার করে, সেটিই আমাদের দাবি।”
জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান বলেন, “হামলার পেছনে নির্বাচনী প্রভাব বিস্তারের উদ্দেশ্য রয়েছে। বিশেষ করে নারী ভোটারদের উপর এই ধরনের চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে। আমাদের কর্মীরা দাঁড়িপাল্লার পক্ষে কাজ করায় পরিকল্পিতভাবে এই ন্যাক্কারজনক ঘটনা ঘটানো হয়েছে। প্রশাসন যেন দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেয়, এটাই আমাদের দাবি।”
ওসি মো. ইমতিয়াজ আহমেদ বলেন, “দোকানে অগ্নিসংযোগের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি।”
স্থানীয়রা উদ্বিগ্ন যে, নির্বাচনের সময় এমন অগ্নিসংযোগ ভোটারদের ভয় দেখাতে এবং ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। প্রশাসন ও পুলিশ এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করেছে এবং দোষীদের শনাক্ত করতে তৎপর রয়েছে।
এদিকে, প্রার্থীর পক্ষের সমর্থকরা বলছেন, “এ ধরনের হামলা নির্বাচনের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা হুমকির সম্মুখীন করছে। জনগণ যেন শান্তিপূর্ণভাবে ভোট দিতে পারে, সেটি নিশ্চিত করতে সকলকে সচেতন থাকতে হবে।”