রাজবাড়ী জেলা বিএনপি দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অশালীন আচরণের অভিযোগে রাজবাড়ী পৌর বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক আকমল হোসেন চৌধুরীকে বহিষ্কার করেছে। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে উদ্দেশ করে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়ার ঘটনায় দলটির ভেতরে ব্যাপক ক্ষোভ সৃষ্টি হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতেই এ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে।

গত ১৬ নভেম্বর বিকেল সোয়া ৫টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ে রাজবাড়ী–ফরিদপুর মহাসড়কে কেন্দ্রীয় মনোনয়ন পরিবর্তনের দাবিতে স্থানীয় বিএনপির একাংশ বিক্ষোভ শুরু করে। অভিযোগ রয়েছে, সেই বিক্ষোভ মিছিলে উপস্থিত আকমল হোসেন চৌধুরী মহাসচিব মির্জা ফখরুলের নামে অশালীন ও শিষ্টাচারবহির্ভূত স্লোগান দেন। মুহূর্তেই সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং স্থানীয় ও জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রচারিত হয়। বিষয়টি দলের শীর্ষ নেতাদের নজরে এলে জেলা বিএনপি দ্রুত ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হয়।

পরদিন রাতেই জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবু এবং সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল আলমের স্বাক্ষরিত এক নোটিশে আকমল হোসেনকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে তাঁর লিখিত ব্যাখ্যাকে জেলা বিএনপি ‘অসন্তোষজনক ও অযৌক্তিক’ বলে উল্লেখ করেছে। এরপরই তাঁকে সংগঠনের সাংগঠনিক সম্পাদক পদসহ দলীয় সকল প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়।

বহিষ্কারসংক্রান্ত চিঠির অনুলিপি পাঠানো হয়েছে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, ফরিদপুর বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ এবং সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর কাছে।

জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবু বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর একজন সবার কাছে সম্মানিত জাতীয় নেতা। তাঁর বিরুদ্ধে কুরুচিপূর্ণ স্লোগান দেওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একজন দায়িত্বশীল নেতার কাছ থেকে এমন আচরণ দলীয় শৃঙ্খলার স্পষ্ট লঙ্ঘন।

উল্লেখ্য, রাজবাড়ী-১ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়মের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মনোনয়নবঞ্চিত আসলাম গ্রুপের নেতাকর্মীরা সেদিন মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। সেই বিক্ষোভেই আকমল হোসেনের দেওয়া স্লোগান ভাইরাল হয়ে ব্যাপক সমালোচনা সৃষ্টি করে।