ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ অংশে এক রাতে একাধিক ডাকাতির ঘটনায় কাতারপ্রবাসীসহ বিএনপির অন্তত ১৭ জন নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। পৃথক এসব হামলায় ডাকাতরা নগদ টাকা, মোবাইল ফোন, পাসপোর্ট ও গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র লুট করে নিয়ে যায়। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, মহাসড়কে দীর্ঘ যানজট ও পর্যাপ্ত নিরাপত্তার অভাবকে কাজে লাগিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতচক্র এসব হামলা চালিয়েছে।
ঘটনাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুতরটি ঘটে বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) ভোররাতে সোনারগাঁ উপজেলার পিরোজপুর ইউনিয়নের নয়াগাঁও এলাকায়। কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বাসিন্দা কাতারপ্রবাসী রিফাতুজ্জামান ছুটি শেষে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে একটি মাইক্রোবাসে করে যাত্রা করছিলেন। ভোর সোয়া ৩টার দিকে যানজটে আটকে পড়লে ১০-১২ জনের একটি ডাকাতদল পিস্তল, রামদা ও চাপাতিসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে গাড়িতে হামলা চালায়। তারা গাড়ির কাচ ভেঙে রিফাতুজ্জামানসহ পরিবারের সাতজনকে মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর আহত করে। একপর্যায়ে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তার পাসপোর্ট, বিমান টিকিট, তিনটি স্মার্টফোন ও নগদ প্রায় ৩০ হাজার টাকা লুট করে নেয় ডাকাতরা। আহতদের স্থানীয় ক্লিনিকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। পরে রিফাতুজ্জামান সোনারগাঁ থানায় লিখিত অভিযোগ করেন।
একই রাতে মহাসড়কের পিরোজপুর ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন এলাকায় এবং আষাড়িয়ারচর অংশে বিএনপি নেতাদের বহনকারী গাড়িতেও হামলা চালানো হয়। তারা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পূর্বাচলের দিকে যাচ্ছিলেন। পৃথক দুই ঘটনায় অন্তত ১০ জন বিএনপি নেতা আহত হন। ডাকাতরা গাড়ি ভাঙচুর করে নগদ অর্থ ও একাধিক মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীরা জানান, একের পর এক হামলার কারণে মহাসড়কে চলাচলকারী যাত্রীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে প্রবাসী ও রাজনৈতিক কর্মীরা নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বিগ্ন।
এ বিষয়ে সোনারগাঁ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মহিববুল্লাহ বলেন, প্রবাসীর গাড়িতে ডাকাতির ঘটনায় একটি অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। অন্যান্য ঘটনায় এখনো কেউ আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দেয়নি। পুলিশ মহাসড়কে টহল জোরদার করার কথা জানিয়েছে।