টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী চিকিৎসকদের ব্যবহৃত ওয়াশরুমে গোপন ক্যামেরা স্থাপনের অভিযোগে অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসক রায়হান কবির ইমনকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত। মঙ্গলবার দুপুরে টাঙ্গাইলের চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের এসিজিএম গোলাম মাহবুব খান এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
এর আগে টাঙ্গাইল মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিন অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করে পাঁচ দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। আদালত চত্বরে এ সময় বিপুল সংখ্যক ইন্টার্ন চিকিৎসক উপস্থিত হন এবং একপর্যায়ে তারা অভিযুক্তের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে স্লোগান দিতে থাকেন।
পুলিশ ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, রোববার সন্ধ্যায় হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডের ৯০৭ নম্বর ওয়াশরুমে এক নারী ইন্টার্ন চিকিৎসক একটি স্পাই কলম ক্যামেরা দেখতে পান। বিষয়টি জানাজানি হলে অভিযুক্ত ইমন ক্যামেরাটি ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করেন এবং ওই নারী চিকিৎসকের সঙ্গে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়ে পড়েন। অভিযোগ রয়েছে, এ সময় তিনি তাকে একটি কক্ষে আটকে রাখারও চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে ক্যামেরাটি ভেঙে ফেলা হয়।
ঘটনার পর সোমবার বিকেলে অন্যান্য ইন্টার্ন চিকিৎসক হাসপাতালের পরিচালক ডা. মোহাম্মদ আব্দুল কুদ্দুস ও অভিযুক্ত ইমনকে একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখেন। খবর পেয়ে সেখানে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) এবং সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।
অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয়, গত কয়েক বছর ধরে অভিযুক্ত ইমনের বিরুদ্ধে নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের একাধিক অভিযোগ রয়েছে। রোববার রাতেই এক নারী চিকিৎসক হাসপাতাল পরিচালকের কাছে যৌন হয়রানির লিখিত অভিযোগ দেন।
এর পরিপ্রেক্ষিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং প্রাথমিকভাবে অভিযুক্ত ইন্টার্ন চিকিৎসককে সাময়িকভাবে বহিষ্কার করা হয়। হাসপাতাল পরিচালক জানান, তিন কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এ ঘটনায় হাসপাতাল পরিচালক বাদী হয়ে টাঙ্গাইল মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। পুলিশ জানায়, তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্তকে রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে এবং বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।