রাজশাহীতে মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ আব্দুর রহমানের ছেলে তাওসিফ রহমান সুমনকে হত্যায় স্পষ্ট শ্বাসরোধের আলামত পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) বিকেলে নগরের ডাবতলা এলাকার একটি ভাড়া বাসায় সংঘটিত এ হত্যাকাণ্ড শহরজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। নবম শ্রেণির ছাত্র সুমনের এক পায়ের আঙুলও কাটা অবস্থায় পাওয়া যায়, যা তদন্তে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে।
রাজশাহী মহানগর পুলিশের মুখপাত্র গাজিউর রহমান জানান, প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে সুমনের গলায় চাপ প্রয়োগের দাগ রয়েছে, যা শ্বাসরোধে হত্যার ইঙ্গিত দেয়। এছাড়া তার হাঁটুর নিচে পায়ের একটি আঙুল ক্ষতবিক্ষত অবস্থায় পাওয়া গেছে। সুমনের মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ ঘরের বিভিন্ন স্থানে সংগ্রাম ও ধস্তাধস্তির চিহ্নও পেয়েছে।
এ ঘটনার আগে বিচারকের স্ত্রী তাসমিন নাহারও ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। পুলিশ ইতিমধ্যে হামলাকারী লিমন মিয়াকে (৩৫) আটক করেছে। তার আদি বাড়ি গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার কঞ্চিপাড়া ইউনিয়নের মদনেরপাড়া গ্রামে। লিমনের হাত, মাথা ও পায়ে জখম ছিল; অন্যদিকে তাসমিন নাহারের পেট ও ঊরুতে গভীর আঘাত পাওয়া গেছে। দুজনই রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার শুরুতেই লিমন একটি ব্যাগ নিয়ে বাসায় ঢুকে ডাইনিং টেবিলে বসেন এবং তাসমিন নাহারের সঙ্গে কথা বলতে থাকেন। হঠাৎ ব্যাগ থেকে ছুরি বের করলে তাসমিন আতঙ্কিত হয়ে পাশের কক্ষে গিয়ে দরজা বন্ধ করেন। লিমন একের পর এক লাথি মেরে দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে হামলা চালান। এ সময় পাশের কক্ষে ঘুমিয়ে থাকা সুমন শব্দ শুনে জেগে উঠলে গৃহকর্মী তাকে ঘটনা জানান। ছেলে লিমনকে আটকানোর চেষ্টা করলে হামলাকারী তাকে ওড়না জাতীয় কাপড় দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেছেন বলে ধারণা করছে পুলিশ।
ঘটনার পর গৃহকর্মী বাইরে গিয়ে আশপাশের ফ্ল্যাটে খবর দিলে বাসিন্দারা এসে পুলিশে জানান। রাতেই লিমনের জ্ঞান ফিরলে তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।
রামেক হাসপাতালের মুখপাত্র ডা. শংকর কুমার বিশ্বাস জানান, তাসমিন নাহারের অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়েছে। সুমনের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ ময়নাতদন্তে নিশ্চিত করা হবে।