বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ভোলা-৩ (লালমোহন–তজুমদ্দিন) আসনের ধানের শীষের প্রার্থী মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ভোট দেওয়ার ক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় নয়, প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, যোগ্যতা ও সততাকেই গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যে মানুষটি এলাকার প্রকৃত নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা রাখেন, তিনি যে দলেরই হোন না কেন—তাঁকেই ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
বুধবার (২৮ জানুয়ারি) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ভোলার লালমোহন উপজেলার লালমোহন হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে আয়োজিত এক অভিভাবক সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন মেজর হাফিজ।
তিনি বলেন, অন্ধ দলকানা রাজনীতি সমাজ ও রাষ্ট্রকে পিছিয়ে দিয়েছে। গুন্ডামি, মাস্তানি ও শক্তির রাজনীতি থেকে বেরিয়ে এসে একটি শিক্ষিত ও সচেতন সমাজ গড়ার সময় এসেছে। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, “আমি এমন রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না, যেখানে নৈতিকতা নেই, মূল্যবোধ নেই।”
বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতা নিয়ে সমালোচনা করে মেজর হাফিজ বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের রাজনীতি কলুষিত হয়ে পড়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে শিক্ষা, সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থার ওপর। ভোটারদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোট দেওয়ার সময় আবেগ নয়, বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। অযোগ্য, অশিক্ষিত ও দায়িত্বহীন ব্যক্তিদের হাতে দেশ তুলে দিলে ভবিষ্যৎ আরও অনিশ্চিত হয়ে পড়বে।
তিনি দাবি করেন, পাকিস্তান আমলে শিক্ষার পরিবেশ তুলনামূলকভাবে ভালো ছিল। স্বাধীনতার পর অদক্ষ ও অযোগ্য নেতৃত্ব রাষ্ট্রক্ষমতায় আসায় শিক্ষাব্যবস্থায় অবক্ষয় নেমে আসে এবং শিক্ষাঙ্গনে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার লাভ করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে শিক্ষাক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তনের অভাব নিয়েও তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।
আওয়ামী লীগের দীর্ঘ শাসনামলকে “দুঃস্বপ্নের সময়” উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই সময়ে দেশীয় স্বার্থের চেয়ে বিদেশি স্বার্থ প্রাধান্য পেয়েছে। তিনি অভিযোগ করেন, এখনো দেশের নির্বাচন ও স্থিতিশীলতা বিনষ্টে নানা ষড়যন্ত্র চলছে।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে একটি ঐতিহাসিক সুযোগ হিসেবে উল্লেখ করে মেজর হাফিজ বলেন, এই ভোটের মাধ্যমেই দেশবাসী নতুন করে বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ গড়ার পথ বেছে নিতে পারে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, ভোটাররা সেদিন দেশপ্রেমিক, সৎ ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বকে নির্বাচিত করবেন।
সভায় লালমোহন হা-মীম রেসিডেন্সিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. রুহুল আমিনের সভাপতিত্বে স্থানীয় বিএনপি নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন।