গোপালগঞ্জ-১ আসনে নির্বাচনী উত্তাপের মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক প্রতিনিধিকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপি প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে ওই প্রতিনিধি হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
ভুক্তভোগীর নাম মো. শাহ আলম। তিনি মুকসুদপুর উপজেলার কমলাপুর এলাকার বাসিন্দা। অভিযোগ অনুযায়ী, একই আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী মো. কাবির মিয়ার নির্বাচনী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন তিনি। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) বিকেলে গোপালগঞ্জ আদালত চত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
শাহ আলম জানান, তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী কাবির মিয়ার পক্ষে মনোনয়ন সংক্রান্ত হলফনামা ও অন্যান্য কাগজপত্র প্রস্তুতের জন্য আদালত এলাকায় যান। কাজ শেষে কোর্ট গেটের সামনে বের হওয়ার সময় বিএনপি প্রার্থী সেলিমুজ্জামানের সমর্থকরা তাকে ঘিরে ধরে মারধর করেন। অভিযোগে বলা হয়, এ সময় তার কাছ থেকে নির্বাচনী হলফনামাসহ গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়া হয়।
ভুক্তভোগীর দাবি, হামলায় তার হাত-পা গুরুতরভাবে আহত হয় এবং মাথায় সেলাই দিতে হয়। মারধরের পর তাকে সদর থানায় নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়। পরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা শেষে তাকে গ্রেপ্তার না করে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি প্রথমে ঘটনাটিকে দুর্ঘটনা বলে চিকিৎসা নেন বলেও জানান।
শাহ আলম আরও বলেন, নির্বাচনের মাঠে এ ধরনের সহিংসতা নিরপেক্ষ পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তার মতে, একজন প্রার্থীর পক্ষে কাজ করার কারণেই তাকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে।
এ বিষয়ে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মো. সরোয়ার হোসেন বলেন, ঘটনাটি তাদের নজরে এসেছে। ভুক্তভোগী বা তার পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ ঘটনায় এলাকায় রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বলছেন, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে প্রশাসনের আরও কঠোর নজরদারি প্রয়োজন।