ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলায় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিএনপি প্রার্থী ও বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে তীব্র সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে ভালুকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কয়েকটি স্থানে ভাঙচুর ও আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বিকেলে ভালুকা উপজেলার কাচিনা ইউনিয়নে নির্বাচনি প্রচারণায় যান বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলম। সেখানে ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চুর সমর্থকদের সঙ্গে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। ওই ঘটনার খবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে মোর্শেদ আলমের সমর্থকেরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থান নিয়ে হামলায় জড়ায়।
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকেরা উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে এবং এতে জেলা যুবদল নেতা মিল্টনসহ অন্তত পাঁচজন আহত হন। ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় বাচ্চুর সমর্থকেরাও পাল্টা জড়ো হয়ে নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় অবস্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী মোর্শেদ আলমের ব্যক্তিগত কার্যালয় এবং তার সমর্থক পৌর ছাত্রদলের সদস্য সচিব আদি খান শাকিলের ব্যক্তিগত কার্যালয়ে হামলা চালান। পরে ওই দুটি স্থানে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
এ ঘটনার জেরে সন্ধ্যা থেকে রাত পৌনে ৯টা পর্যন্ত দুই পক্ষের মধ্যে দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আতঙ্কে দোকানপাট বন্ধ হয়ে যায় এবং সাধারণ মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যান।
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও বিএনপি প্রার্থী ফখরুদ্দিন আহম্মেদ বাচ্চু ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মুহাম্মদ মোর্শেদ আলমের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, নির্বাচনি প্রচারণাকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে কাজ করছে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।