ফেনীর পরশুরাম পৌর এলাকার দক্ষিণ কোলাপাড়ায় একটি অভিযোগ তদন্ত করতে গিয়ে হামলার শিকার হয়েছেন এক উপপরিদর্শক (এসআই)সহ তিন পুলিশ সদস্য। শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে গুনাগাজী মজুমদার বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেন পরশুরাম মডেল থানা পুলিশের এসআই মুন্না দে, কনস্টেবল নাজমুল ইসলাম ও কনস্টেবল রুহুল আমিন।

থানা সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণ কোলাপাড়া এলাকার বাসিন্দা নাসির উদ্দিনের স্ত্রী শেফালি আক্তার পারিবারিক বিরোধ, মারধর ও হুমকির অভিযোগ এনে প্রতিবেশী বনবিভাগের কর্মকর্তা ফারুক মিয়া, তার ছেলে যুবদল নেতা রাজিব মজুমদার এবং পৌর যুবদলের সদস্য সচিব এমাম হোসেন ফয়সলের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। ওই অভিযোগ যাচাই করতেই পুলিশের তিন সদস্য ঘটনাস্থলে যান।

পুলিশ জানায়, সেখানে পৌঁছানোর পর অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ফারুক মিয়া উত্তেজিত হয়ে পড়েন। প্রথমে বাকবিতণ্ডা, পরে একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। অভিযোগ অনুযায়ী, ফারুক, তার ছেলে ও সহযোগীরা পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে ‘তোরা গুন্ডা নাকি’ বলে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান। এ সময় কনস্টেবল নাজমুল ইসলাম পিঠে ছুরিকাঘাতে আহত হন এবং হামলাকারীরা পুলিশের পোশাক ছিঁড়ে ফেলার পাশাপাশি অস্ত্র ছিনিয়ে নেওয়ারও চেষ্টা করেন।

ঘটনার খবর থানা পর্যন্ত পৌঁছালে অতিরিক্ত পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত সদস্যদের উদ্ধার করে পরশুরাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করায়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাদের অবস্থা স্থিতিশীল বলে জানা গেছে।

আহত এসআই মুন্না দে জানান, আমরা নিয়মিত অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে ঘটনাস্থলে যাই। বিনা উস্কানিতে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। তিনি আরও বলেন, হামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে মাদক সংশ্লিষ্টতা নিয়েও এলাকায় নানা অভিযোগ রয়েছে।

পরশুরাম মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম বলেন, পুলিশের ওপর হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করার প্রক্রিয়া চলছে।

পুলিশের ওপর হামলার ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করলেও পরিস্থিতি বর্তমানে নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।