ভূমিকম্প, অগ্নিকাণ্ড কিংবা মহাবন্যার মতো বৃহৎ দুর্যোগে সরকারি বাহিনী একা সব দায়িত্ব মোকাবিলা করতে পারবে না—এ কথা স্পষ্টভাবে জানালেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) মো. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তার মতে, দক্ষ ও প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবীরা পেশাদার বাহিনীর অন্যতম বড় সহায়ক শক্তি, যা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অপরিহার্য হয়ে উঠেছে।

শুক্রবার দুপুরে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল মাল্টিপারপাস ট্রেনিং গ্রাউন্ডে আন্তর্জাতিক স্বেচ্ছাসেবক দিবস উপলক্ষে ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

উপদেষ্টা বলেন, “ভূমিকম্পের মতো জটিল দুর্যোগে শুধু সরকারি বাহিনী দিয়ে সব কাজ সামলানো সম্ভব নয়। প্রাথমিক উদ্ধার, আগুন নেভানো বা আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে স্বেচ্ছাসেবীরা পেশাদার দলের মতো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। দক্ষতা ছাড়া উদ্ধার কার্যক্রম কখনোই সফল হয় না।”

তিনি আরও জানান, ইতিমধ্যে দেশের ৫৫ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবীকে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, যা বড় ধরনের বিপর্যয়ে দেশের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। উপদেষ্টা বলেন, “নতুন প্রজন্মকে স্বেচ্ছাসেবামূলক কাজে যুক্ত করতে সরকারি-বেসরকারি উদ্যোগের সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন।”

আন্তর্জাতিক ভলান্টিয়ার দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “আজকের দিনটি হচ্ছে মানবতার সেবায় নিয়োজিত মানুষদের স্বীকৃতি জানানোর সময়। প্রতিটি ভলান্টিয়ারকে আমি আন্তরিক অভিনন্দন জানাই।”

অনুষ্ঠানের শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, নির্বাচনের আগে ভারী অস্ত্র উদ্ধার অভিযান নিয়মিত চলছে এবং এতে সরকারের কোনো ব্যর্থতা নেই। তবে আইজিপিকে সরানোর দাবিতে পাঠানো লিগ্যাল নোটিশ বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মো. খোদা বখস চৌধুরী ও ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুহাম্মদ জাহেদ কামালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। দেশের নানা জেলা থেকে আসা দু’শর বেশি প্রশিক্ষিত স্বেচ্ছাসেবী দিনব্যাপী কর্মসূচিতে অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে অগ্নিনির্বাপণ অনুশীলন, ভূমিকম্পোত্তর উদ্ধার মহড়া এবং সচেতনতামূলক সেশন অনুষ্ঠিত হয়। শেষ পর্বে উৎকৃষ্ট অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ২২ জন স্বেচ্ছাসেবীকে ক্রেস্ট ও সনদপত্র তুলে দেন মহাপরিচালক।