রাজশাহী সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কোর্ট বুলনপুর এলাকায় বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা ৭টার দিকে এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ওয়ার্ড বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে নির্বাচনি প্রচারের প্রস্তুতি সভা ডাকা হয়। সভাটি আহ্বান করেন ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব রুবেল। আমন্ত্রণ পেয়ে সেখানে যোগ দেন সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা রুহুল আমিন টুনু। তাঁর উপস্থিতি দেখেই ক্ষুব্ধ হন ওয়ার্ড সভাপতি রকিব উদ্দিন টুটুল। তিনি প্রশ্ন তোলেন— “টুনু কেন সভায়, কে ডেকেছে তাকে?”
এ নিয়ে টুটুল ও রুবেলের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। পরে টুটুল তাঁর অনুসারীদের নিয়ে স্লোগান দিতে দিতে সভাস্থল ত্যাগ করেন।
সাধারণ সম্পাদক রুবেল বলেন, সভায় থানা বিএনপির সভাপতি মিজানুর রহমান মিজান, সিনিয়র সহ-সভাপতি নাজিমুদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক আমিনুল উপস্থিত ছিলেন। টুনুকে সিনিয়র নেতা হিসেবে সভায় ডাকা হয়েছিল। টুটুল বেরিয়ে যাওয়ার কিছুক্ষণ পর ৩০–৪০ জন লাঠিসোঁটা নিয়ে কার্যালয়ে হামলা চালায়। এতে হাতাহাতি হয় এবং কার্যালয়ের সামনে একটি হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। তবে কেউ আহত হয়নি।
বিএনপি নেতা রুহুল আমিন টুনু বলেন, “গত সিটি নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ায় আমি সাময়িক বহিষ্কার হয়েছিলাম। তবে ২৪ নভেম্বর হাই কমান্ড আমার বহিষ্কারাদেশ প্রত্যাহার করেছে। রুবেলের আমন্ত্রণে সভায় গিয়েছিলাম, যা ঘটেছে তা দুঃখজনক।”
এ বিষয়ে ওয়ার্ড সভাপতি টুটুলের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। থানা বিএনপির সভাপতি মিজান বলেন, “বিষয়টি মহানগর কমিটিকে জানানো হয়েছে, তারা সিদ্ধান্ত নেবে।”
রাজপাড়া থানার ওসি হাবিবুর রহমান জানান, “ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ পাঠানো হয়। হাতাহাতি ও একটি হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। তবে এখনো কেউ থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়নি।”