শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হিসেবে সাঈদ আহমেদ আসলামের নাম ঘোষণা করায় দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় জেলা শহরে সাবেক সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সরদার একে এম নাসিরউদ্দিন কালুর সমর্থকরা মশাল মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন।

মিছিল ও বিক্ষোভ কর্মসূচি জেলা প্রশাসকের বাসভবনের সামনের সড়ক থেকে শুরু হয়ে উত্তর বাজার এলাকায় শেষ হয়। এতে অন্তত তিন শতাধিক নেতা-কর্মী অংশ নেন। বিক্ষোভকারীরা দাবি করেন, আসলামের গ্রামের বাড়ি শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা-গোসাইরহাট) এলাকায় হওয়ায় তাকে জেলা-১ আসনে প্রার্থী করা অযৌক্তিক। অন্যদিকে তিনবারের সাবেক সংসদ সদস্য এবং জেলা বিএনপির দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ নেতা নাসিরউদ্দিন কালুর মনোনয়ন না দেওয়ায় তারা ক্ষুব্ধ।

বিএনপি নেতা সরদার চাঁন মিয়া বলেন, “কালু সরদার একজন প্রবীণ রাজনীতিবিদ। জেলা বিএনপির সৃষ্টিতেও তার অবদান অনস্বীকার্য। তিনি তিনবার সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং জেলার অবকাঠামো উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। তাকে বাদ দিয়ে বহিরাগত প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, যা দলের স্বার্থের বিপরীত।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, “দ্রুত প্রার্থী পরিবর্তন না হলে বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে।”

সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা আব্দুস সামাদ বেপারী বলেন, “এই আসনে যথেষ্ট যোগ্য নেতৃত্ব রয়েছে। অথচ ডামুড্যা থেকে বহিরাগত প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। কালু সরদারের বিকল্প নেই। আমরা দাবি জানাই, অবিলম্বে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হোক।”

দলের অভ্যন্তরীণ এই মতবিরোধ জেলার রাজনৈতিক উত্তেজনা আরও বাড়াচ্ছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, স্থানীয় নেতৃত্ব ও কেন্দ্রীয় কমিটির মধ্যে সমন্বয় না থাকলে ভোট পূর্ববর্তী পরিস্থিতি কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

এ ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যে নানা ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকে আশা প্রকাশ করছেন, নেতাদের মধ্যে সংলাপ ও সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যা সমাধান হলে বিএনপির প্রচার-প্রচারণা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা সম্ভব হবে।