ভারতীয় আধিপত্যবাদবিরোধী আন্দোলনের প্রতি ভয় সৃষ্টির লক্ষ্যেই ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদিকে টার্গেট করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম। শুক্রবার রাতে পঞ্চগড়ের চৌরঙ্গী মোড়ে ছাত্র–জনতার বিক্ষোভ মিছিল শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে তিনি এ অভিযোগ করেন।

সারজিস আলম বলেন, অভ্যুত্থানের আগে থেকেই শরিফ ওসমান হাদি ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন, আর এ কারণেই সাম্প্রতিক সময়ের অনুপ্রবেশকারীরা তাকে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করেছে। তার ভাষায়—“সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন পরিচয়ে সীমান্ত দিয়ে যাদের ঢোকানো হয়েছে, তাদের উদ্দেশ্য দেশকে অস্থিতিশীল করা। কারণ তারা জানে—জুলাইয়ে আমরা যেভাবে রক্ত দিয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়েছিলাম, সংকট এলে আমরা আবারও এক হব।”

এনসিপির এই নেতা দাবি করেন, তাদের সামনে শুধু নির্বাচনী লড়াই নয়—এ লড়াই দেশের অস্তিত্ব রক্ষার। তাই বাংলাদেশকে দুর্বল করার যে কোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী সন্ত্রাসী ও খুনিদের গ্রেপ্তারে এখনো কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি নেই। “ইন্টারনাল আপোষ করে দেশে স্থিতি ফিরে আসবে না,” উল্লেখ করে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানান—সারা দেশে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে খুনি–সন্ত্রাসীদের পাশাপাশি বিদেশে বসে ষড়যন্ত্রকারীদেরও আইনের আওতায় আনতে হবে।

হাদির ওপর হামলাকে ব্যক্তিগত আক্রমণ হিসেবে না দেখে গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা থামানোর কৌশল হিসেবে ব্যাখ্যা করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, “এই গুলি শুধু হাদীর মাথায় নয়, অভ্যুত্থান-পরবর্তী গণআকাঙ্ক্ষার ওপর নিক্ষিপ্ত হয়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রস্তুতি বানচালে আরেক দফা খেলা শুরু হয়েছে।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, দিনে এক কথা, রাতে আরেক কথা বললে সুষ্ঠু নির্বাচন অসম্ভব। সামনে যাতে পথভ্রষ্টতা না ঘটে, সেজন্য সকল গণতন্ত্রকামী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিক্ষোভ মিছিলে জেলা জামায়াতের আমির ইকবাল হোসাইন, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ফজলে রাব্বিসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।