মহান মুক্তিযুদ্ধে আত্মত্যাগকারী বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাভারের জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণ ত্যাগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। শুক্রবার (২৬ ডিসেম্বর) রাত ১০টা ৩৩ মিনিটে তিনি স্মৃতিসৌধ এলাকা থেকে বের হন। এর আগে রাত ১০টা ৪ মিনিটে তিনি জাতীয় স্মৃতিসৌধে প্রবেশ করে দলের শীর্ষ নেতাকর্মীদের সঙ্গে শহীদদের স্মরণ করেন।
তারেক রহমানের উপস্থিতিকে ঘিরে সাভার ও আশুলিয়াসহ দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজারো মানুষ জাতীয় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে জড়ো হন। ব্যানার, ফেস্টুন ও দলীয় স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। দীর্ঘ সময় ধরে নেতাকর্মীরা সেখানে অবস্থান করেন এবং দলীয় শীর্ষ নেতার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন।
যেকোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা এড়াতে এবং নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্মৃতিসৌধ ও আশপাশের এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। পুলিশ, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), আনসার সদস্যদের পাশাপাশি সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও মোতায়েন করা হয়। সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক অবস্থানে ছিল।
এর আগে শুক্রবার বিকেলে বিএনপির পক্ষ থেকে নিয়ম মেনে জাতীয় স্মৃতিসৌধে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন দলের নেতারা। শ্রদ্ধা নিবেদনকালে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর, কেন্দ্রীয় সহ-পরিবার কল্যাণ বিষয়ক সম্পাদক ডা. দেওয়ান মোহাম্মদ সালাউদ্দিন বাবুসহ দলের কেন্দ্রীয় ও স্থায়ী কমিটির অন্যান্য নেতারা।
উল্লেখ্য, এর আগে বিকেল ৪টা ৪০ মিনিটে তারেক রহমান শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারত করেন। দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বৃহস্পতিবার দেশে ফেরেন তিনি। ফেরার দিন রাজধানীর পূর্বাচলের ৩০০ ফিট এলাকায় দলের দেওয়া সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং পরে অসুস্থ মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে যান।
জাতীয় স্মৃতিসৌধে তারেক রহমানের এই উপস্থিতিকে রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।