খুলনা মহানগরীর ভেতরে অবৈধভাবে অস্ত্র তৈরির একটি গোপন কারখানার সন্ধান পেয়েছে পুলিশ। শনিবার সন্ধ্যায় নগরীর জোড়াগেট এলাকার এইচআরসি ভবনের পাশের একটি গলিতে অভিযান চালিয়ে কারখানাটি শনাক্ত করা হয়। অভিযানে অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিপুল পরিমাণ যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত সরঞ্জামের মধ্যে রয়েছে অস্ত্র তৈরির সাচ, সীসা, ট্রিগার, ট্রিগার গার্ডসহ ৩০ থেকে ৩৫টি আগ্নেয়াস্ত্রের বিভিন্ন অংশ। শহরের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে এমন একটি অবৈধ অস্ত্র কারখানা পরিচালিত হওয়ায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

আটক ব্যক্তিরা হলেন—দোহা আয়রন ফাউন্ডারি কারখানার মালিক নজরুল ইসলাম এবং তার দুই কর্মচারী শহিদুল ও আকবর আলী। তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) ডেপুটি কমিশনার মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) কাছে আগে থেকেই এখানে অস্ত্র তৈরির কার্যক্রম চলার তথ্য ছিল। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই ডিবির একটি বিশেষ দল অভিযান চালায় এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়।

তিনি বলেন, “এই কারখানায় অন্যান্য ধাতব কাজের আড়ালে অবৈধভাবে অস্ত্রের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ তৈরি করা হচ্ছিল। যেখানে অস্ত্রের ফিনিশিং দেওয়া হয়, সেই অংশেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এটি একটি বড় সাফল্য।”

ডেপুটি কমিশনার আরও বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে কেএমপি এলাকায় অস্ত্রের ব্যবহার বেড়েছে। মহানগরের ভেতরেই অস্ত্র তৈরির কারখানা থাকা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তৎপরতায় বিষয়টি উদ্ঘাটন সম্ভব হয়েছে।

এ বিষয়ে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তৈমুর ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে তিনজনকে আটক করা হলেও তদন্ত এখনও চলমান। তিনি বলেন, অস্ত্র তৈরির মূল কারিগরকে ঈশ্বরদী থেকে আনা হয়েছিল। এখানে ট্রিগার, ট্রিগার গার্ডসহ ঢালাইয়ের কাজ সম্পন্ন করা হতো। বাটের কাঠের অংশ ও স্প্রিং অন্য স্থানে সংযোজন করা হতো।

তিনি আরও জানান, দীর্ঘদিন ধরেই এখানে অস্ত্র তৈরি হচ্ছিল এবং এর আগে খুলনা ও আশপাশের কয়েকটি জেলায় এসব অস্ত্র সরবরাহ করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে তথ্য পাওয়া গেছে। তদন্ত শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।