দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে আবারও ভোটের মাঠে নামলেন তৃতীয় লিঙ্গের প্রতিনিধিত্বকারী আনোয়ারা ইসলাম রানী। বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) বিকেলে রংপুর আঞ্চলিক নির্বাচন অফিস থেকে তিনি রংপুর-৩ (সদর-আংশিক সিটি) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেন। এ সময় তার সঙ্গে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠীর একাধিক সদস্য উপস্থিত ছিলেন, যা পুরো ঘটনাটিকে আরও তাৎপর্যপূর্ণ করে তোলে।

আনোয়ারা ইসলাম রানী রংপুরের ‘ন্যায় অধিকার ট্রান্সজেন্ডার উন্নয়ন সংস্থা’র সভাপতি। দীর্ঘদিন ধরে তিনি তৃতীয় লিঙ্গসহ সমাজের প্রান্তিক মানুষের অধিকার, মর্যাদা ও সামাজিক স্বীকৃতি আদায়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করে আসছেন। বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রমে অংশ নিয়ে তিনি ইতোমধ্যে স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিত মুখ হয়ে উঠেছেন।

মনোনয়নপত্র সংগ্রহের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে রানী বলেন, কোনো রাজনৈতিক দলের ছায়ায় নয়, বরং সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ও বিশ্বাসের শক্তিতেই তিনি নির্বাচনে দাঁড়িয়েছেন। তার ভাষায়, “আমি ক্ষমতা বা সুবিধা নিতে আসিনি। মানুষের কথা বলার জায়গা তৈরি করতেই আমার এই লড়াই। অবহেলিত মানুষের কণ্ঠস্বর সংসদে তুলে ধরাই আমার মূল লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, ব্যক্তিগত সংসার বা পিছুটান না থাকায় নিজের সময় ও শ্রম পুরোপুরি জনগণের কল্যাণে ব্যয় করতে চান। বিশেষ করে তৃতীয় লিঙ্গ, নারী, শ্রমজীবী মানুষ ও অন্যান্য প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি নিরলসভাবে কাজ করতে চান।

তরুণ সমাজের উদ্দেশে রানীর আহ্বান ছিল স্পষ্ট। তিনি বলেন, বেকার যুবক-যুবতীদের জন্য সম্মানজনক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা তার অন্যতম অগ্রাধিকার। তরুণদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আপনাদের একটি ভোটই ভয়ের রাজনীতির অবসান ঘটাতে পারে এবং মানবিক পরিবর্তনের পথ খুলে দিতে পারে।”

সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা শোয়েব সিদ্দিকী জানান, বিকেল পর্যন্ত রংপুরের ছয়টি আসনে খুব বেশি প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ না করলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আনোয়ারা ইসলাম রানীর মনোনয়নপত্র সংগ্রহ বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি জানান, মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ সময় ২৯ ডিসেম্বর।

উল্লেখ্য, এর আগেও আনোয়ারা ইসলাম রানী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে ইতিহাস গড়েছিলেন। সে সময় তিনি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ভোট পেয়ে তৃতীয় লিঙ্গের রাজনৈতিক অংশগ্রহণের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেন। এবারও তার প্রার্থিতা রংপুরের রাজনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।