পিরোজপুরের সদর উপজেলার পশ্চিম দুর্গাপুর গ্রামে ডাকাতির সময় জনতার গণপিটুনিতে এক ডাকাত নিহত হয়েছেন। রোববার (২৩ নভেম্বর) দিবাগত রাত সাড়ে ১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও একজন ডাকাত আহত অবস্থায় পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

সদর থানা পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মোল্লা রমিজ জাহান জুম্মা ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। নিহত ডাকাতের পরিচয় এখনও জানা যায়নি, তবে আহত অবস্থায় আটক হওয়া ব্যক্তির নাম সবুজ হাওলাদার (৫৫)। তার বাড়ি বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি গ্রামে।

স্থানীয়দের বরাতে পুলিশ জানায়, রাত দেড়টার দিকে ৬–৭ জনের একটি ডাকাত দল অনুকূল রায়ের বাড়িতে প্রবেশ করে। বাড়ির বাইরে থাকা লোকজনকে অস্ত্রের মুখে ভয় দেখিয়ে দরজা খুলতে বাধ্য করা হয়। ডাকাতরা ঘরে ঢুকে পরিবারকে জিম্মি করে এবং অনুকূল রায়ের কন্যা, স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা রিঙ্কু রায়কে আঘাত করে আহত করে।

ডাকাত দলের সদস্যরা ঘর থেকে প্রায় ৫ ভরি স্বর্ণালংকার, ৮ ভরি রুপা, একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন এবং ১৩ হাজার ৫০০ টাকা লুট করে পালানোর সময় পরিবারের চিৎকারে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসে। গ্রামবাসী তাড়া করে ডাকাত দলের দুই সদস্যকে আটক করতে সক্ষম হয়, যদিও অন্যরা পালিয়ে যায়। উত্তেজিত জনতা আটক দু’জনকে গণপিটুনি দিলে তারা গুরুতর আহত হয়।

খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে আহত দুইজনকে উদ্ধার করে পিরোজপুর জেলা হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক একজনকে মৃত ঘোষণা করেন এবং বেঁচে থাকা আরেকজনকে ভর্তি করেন।

এসআই রমিজ জাহান জুম্মা জানান, গণপিটুনিতে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বাকি ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। ঘটনাটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ডাকাতির ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করলেও পরিবার ও স্থানীয়রা দাবি করছেন, দ্রুত বিচার ও পুলিশি টহল বৃদ্ধি করলে এমন ঘটনা রোধ করা সম্ভব।