বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে তৈরি হয়েছে ব্যাপক রাজনৈতিক উত্তেজনা ও উৎসাহ। বরিশাল থেকে রাজধানী ঢাকায় স্মরণকালের বৃহত্তম জনসমাগমে অংশ নিতে নদী ও সড়ক—দুই পথেই যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন নেতাকর্মীরা। এরই অংশ হিসেবে বরিশালের নদী বন্দরে ইতোমধ্যে প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশালাকৃতির চারটি লঞ্চ।
নদী বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, বরিশাল জেলা বিএনপির উদ্যোগে লঞ্চগুলো ভাড়া নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি লঞ্চ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সাজানো হয়েছে এবং বিকেলের মধ্যেই সেগুলো নেতাকর্মীদের নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়ার কথা রয়েছে। লঞ্চঘাট এলাকায় সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের ভিড় বাড়তে দেখা গেছে। অনেকেই দলবেঁধে ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে উপস্থিত হয়েছেন।
এদিকে বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা সড়ক পথেও ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। জেলার বিভিন্ন বাসস্ট্যান্ডে সকাল থেকেই নেতাকর্মীদের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে। বাস, মাইক্রোবাস ও ব্যক্তিগত যানবাহনে করেও অনেকে ঢাকার পথে রওনা হচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লঞ্চঘাটে উপজেলা পর্যায়ের নেতারা নিজ নিজ কর্মীদের জন্য জায়গা নির্ধারণ করছেন। রশি টেনে লঞ্চের ডেক ভাগ করা হচ্ছে, যাতে যাত্রাপথে শৃঙ্খলা বজায় থাকে। পুরো এলাকায় এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। তৃণমূল নেতাকর্মীদের বিশ্বাস, তারেক রহমানের দেশে ফেরা আগামী দিনের রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আনবে।
বরিশাল দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব অ্যাডভোকেট আবুল কালাম শাহিন জানান, জেলা থেকে চারটি লঞ্চ ও অন্তত ২০টি বাসের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর বাইরে ব্যক্তিগত উদ্যোগেও হাজার হাজার নেতাকর্মী ইতোমধ্যে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছেন। মহানগর বিএনপির পক্ষ থেকেও আরও দুটি লঞ্চ পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
কেন্দ্রীয় বিএনপির বরিশাল বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট বিলকিস জাহান শিরিন বলেন, তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে একাধিক প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বরিশাল বিভাগ থেকেই পাঁচ লক্ষাধিক নেতাকর্মী ঢাকায় যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন। নদী ও সড়ক—উভয় পথেই এই জনস্রোত রাজধানীতে পৌঁছাবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।