কনজুমার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব) সভাপতি এএইচএম সফিকুজ্জামান বলেছেন, খোলা ভোজ্যতেল বিক্রি ভোক্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এতে ভেজাল, নিম্নমান বা নকল তেল মেশানোর সুযোগ বাড়ে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর।
সোমবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহী জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ক্যাব রাজশাহী আয়োজিত ‘বিভাগীয় খাদ্য সমৃদ্ধকরণ ও ভোক্তা অধিকার’ শীর্ষক প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
তিনি বলেন, বাজারে খাদ্যপণ্যের মান নিশ্চিতে সরকারি সংস্থাগুলো ভোক্তা অধিদফতর, বিএসটিআই, কৃষি বিভাগ, ওষুধ প্রশাসন কাজ করছে। তবে শুধু সরকারি সংস্থার ওপর দায়িত্ব চাপালে হবে না। জনগণের সংগঠন হিসেবে ক্যাবকেও সমানভাবে মাঠে সক্রিয় হতে হবে।
খোলা তেল বিক্রি বন্ধে মনিটরিং, প্রচারণা ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেন, ব্যবসায়ীদের প্যাকেটজাত তেল বিক্রিতে উৎসাহিত করা জরুরি।
রাজশাহীর দীর্ঘদিনের বাজার সমস্যার কথাও তুলে ধরেন ক্যাব সভাপতি। তিনি বলেন, এই অঞ্চলে আলুর বাজারে বিশৃঙ্খলা, ভেজাল বীজ, সার সিন্ডিকেট, পরিবহনে চাঁদাবাজি এসব সমস্যা দীর্ঘদিনের। কৃষিঋণ প্রকৃত কৃষকের হাতে পৌঁছায় কি না, তা নিয়মিত তদন্ত করা উচিত। বর্তমানে একটি সিন্ডিকেট ঋণ বিতরণ নিয়ন্ত্রণ করায় অনেক কৃষক দাদন নিয়ে চাষাবাদ করতে বাধ্য হচ্ছেন।
নিত্যপণ্যের অস্থিতিশীলতা নিয়ে তিনি আরও বলেন, বাজারে চার–পাঁচটি বড় করপোরেট গ্রুপের পাশাপাশি অসংখ্য অদৃশ্য শক্তি সক্রিয়। এত মানুষ জড়িত থাকায় সিন্ডিকেট ভাঙা কঠিন হয়ে পড়েছে। দালালচক্র ও আড়তদারদের প্রভাব কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
স্বাস্থ্যসেবায় ভেজাল ওষুধ, মেয়াদোত্তীর্ণ শিশু খাদ্য বিক্রি, অতিরিক্ত মূল্য আদায়সহ বিভিন্ন অনিয়মেও নজরদারি জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের সভাপতি রাজশাহী জেলা প্রশাসক আফিয়া আখতার বলেন, জনস্বার্থে কাজ করার কারণে ক্যাবের প্রতিবেদন ও সুপারিশ জনগণ দ্রুত বিশ্বাস করে। বাজার স্বচ্ছতা ও ভোক্তা অধিকার রক্ষায় তাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।