কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার বাগভান্ডার সোনাতলি এলাকার মাছুমা আক্তার মীম শিশু বাল্যবিয়ে ঠেকিয়ে পড়াশোনার পথে এগিয়ে গেছেন। তাঁর বাবা দিনমজুর। পরিবারের টাকায় মেয়ের পড়াশোনা চালানো কঠিন। প্রতিবেশীদের চাপেও মীমকে বিয়ে দিতে চাওয়া হয়েছিল, কিন্তু মেয়ের দৃঢ় ইচ্ছা এবং মামার সহযোগিতায় বাল্যবিয়ে ঠেকানো সম্ভব হয়।

এ বছরের এইচএসসিতে মীম জিপিএ-৫ পেয়েছেন। তবে পড়াশোনার লড়াই এখনও শেষ হয়নি। রংপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও কোচিং খরচ চালানোর জন্য পরিবারকে প্রতিমাসে প্রায় ৭,৫০০ টাকা খরচ করতে হয়। মেস, খাবার ও যাতায়াত খরচ জোগাতে এখনো হিমশিম খাচ্ছেন তারা।

মীম বলেন, টেস্ট পরীক্ষার আগে আমার বিয়ে দিতে চাওয়া হয়েছিল। কান্না আর মামার অনুরোধে বিয়ে ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। এখনো প্রতিদিন কোচিং ফি, মেস ও খাবারের খরচ জোগাতে কষ্ট হয়।

তার মা আয়েশা খাতুন বলেন, মেয়েটা ক্লাসে জুতা না থাকায় ঢুকতে পেত না। ঋণ করে জুতা ও ড্রেস কিনেছি। তবুও ভালো ফলাফল করেছে। ভাগ্যের বিষয় যে, এমন মেয়ে আমাদের ঘরে জন্মেছে।

মীমের শিক্ষক মো. সফিয়ার রহমান জানান, মেয়েটি গরিব কিন্তু মেধাবী। সরকারি বা বেসরকারি সহযোগিতা পেলে নির্বিঘ্নে পড়াশোনা চালিয়ে যেতে পারবে।

উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা ইউএনও দীপ জন মিত্র বলেন, মীমকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।