ঠাকুরগাঁওয়ে এতিম শিশুদের পূর্ণাঙ্গ সুরক্ষা এবং নারীদের দক্ষতা উন্নয়নের লক্ষ্য নিয়ে নির্মিত হচ্ছে ‘মির্জা রুহুল আমিন অ্যান্ড ফাতেমা মেমোরিয়াল কমপ্লেক্স’। বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বাবা-মায়ের স্মৃতিকে ধারণ করে প্রতিষ্ঠিত এই মানবিক উদ্যোগ পরিচালিত হবে বাসমাহ ফাউন্ডেশনের তত্ত্বাবধানে।

ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার জগন্নাথপুর ইউনিয়নের আদর্শ কলোনিতে প্রায় ৭৫ শতক জমির ওপর গড়ে ওঠা এ কমপ্লেক্সে থাকবে এতিম শিশুদের পূর্ণ সময়ের আবাসন, শিক্ষা, চিকিৎসা, খাদ্যসহ মৌলিক সব সেবা। নারীদের জন্য আলাদা প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হচ্ছে, যেখানে সেলাই, হস্তশিল্প, কম্পিউটারসহ বিভিন্ন বিষয়ে স্কিল ডেভেলপমেন্ট কোর্স পরিচালিত হবে। গত এক বছরে নির্মাণকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হয়েছে—প্রকল্পের প্রায় ৭৫ ভাগই সম্পন্ন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কমপ্লেক্সের শিক্ষা বিভাগের ইনচার্জ আহম্মেদ আমিন জানান, এই প্রকল্প তিনটি বিভাগে পরিচালিত হবে—বাসমাহ অরফানস হোম, বাসমাহ স্কুল অ্যান্ড কালচারাল সেন্টার এবং বাসমাহ উইমেন্স স্কিল অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার। ইতোমধ্যে শতাধিক এতিম শিশুর জন্য প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

তিনি আরও জানান, বাসমাহ ফাউন্ডেশনের সারা দেশে পাঁচটি শাখা রয়েছে। নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ শাখার কার্যক্রম পরিদর্শনের পর মির্জা ফখরুলের পরিবার ঠাকুরগাঁও অঞ্চলের এতিম শিশুদের জন্যও একই ধরনের উদ্যোগ গ্রহণে আগ্রহী হন। পরে পরিবারের পক্ষ থেকে কমপ্লেক্স নির্মাণের জন্য ৭৫ শতক জমি দান করা হয়।

বাসমাহ ফাউন্ডেশনের সিইও মীর সাখাওয়াত হোসাইনের বরাতে তিনি বলেন, ফাউন্ডেশনের আওতায় সারা দেশে বিভিন্ন মানবিক কার্যক্রম চলছে—এর মধ্যে রয়েছে অরফান হোম, নারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, সাংস্কৃতিক শিক্ষা কেন্দ্র, শীতবস্ত্র বিতরণ, কুরবানি প্রোগ্রাম এবং ইফতার আয়োজন।

শিশু সুরক্ষা এবং নারীদের সামাজিক–অর্থনৈতিক উন্নয়নের সমন্বয়ে নির্মিত এই কমপ্লেক্সটি এলাকাজুড়ে ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে। সম্পূর্ণ নির্মাণ শেষ হলে এটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম মানবিক সেবা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।