এর আগে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রংপুর বিভাগে প্রথমবারের মতো তৃতীয় লিঙ্গের কোনো প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন রানি। সেবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঈগল প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদেরের সঙ্গে। প্রতিদ্বন্দ্বিতা পূর্ণ সেই নির্বাচনে জি এম কাদেরের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রানী পেয়েছিলেন ২৩ হাজার ৩২৬ ভোট; যা অবাক করেছিল রংপুরসহ সারা দেশের মানুষকে।

আঞ্চলিক পরামর্শ সভায় এবার নির্বাচন করবেন কি না জিজ্ঞেস করলে উত্তরে রানি বলেন, ‘হ্যাঁ এবারও নির্বাচন করার ইচ্ছে আছে।’
উচ্চকক্ষ বা সংরক্ষিত আসনের জন্য অপেক্ষা করবেন কি না এমন প্রশ্নে রানি বলেন, ‘গতবারও নির্বাচন করেছিলাম, এবারও সরাসরি নির্বাচন করবো।’


পরে সময় সংবাদের সঙ্গে নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে একান্তে কথা বলেন আনোয়ার ইসলাম রানি। জানান রংপুর-৩ আসন থেকে নির্বাচিত হলে নিজ জনগোষ্ঠী ছাড়াও শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বড় ভূমিকা রাখতে চান তিনি।
এবারের নির্বাচনে কোন দলের হয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে সময় সংবাদকে রানী বলেন, ‘আমি গতবারও স্বতন্ত্রপ্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছি, এবারও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই নির্বাচন করব। আমাকে বিভিন্ন দল থেকে মনোনয়ন নেয়ার জন্য প্রস্তাব দিয়েছে আমি কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করিনি। যেহেতু রংপুরের সাধারণ মানুষ কোনো দলকেই পছন্দ করে না, রংপুরের মানুষ নতুন নেতৃত্ব চায়, তাই আমি রংপুরের মানুষের পাশে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবেই এবার নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবো বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
রানি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণা ব্যয়বহুল, খরচেরও একটি বিষয় আছে। আমার আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে আমি এখনো ওভাবে মাঠে নামতে পারিনি। তবে তফসিল ঘোষণার পর থেকেই সব নিয়ম মেনে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করার চেষ্টা করবো।’

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয় হয়েছিলেন এবার জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি সুষ্ঠু নির্বাচন হয় তাহলে আমি নির্বাচিত হব। কারণ আমি সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রেখেছি, তাদের পাশে আছি। আমি মনে করি জনপ্রিয়তায় সাধারণ মানুষের কাছে আমি সবচেয়ে এগিয়ে আছি। নির্বাচিত হলে তৃতীয় লিঙ্গের মানুষসহ রংপুরকে এগিয়ে নিতে কাজ করবো।’
উল্লেখ, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে অনুষ্ঠিত দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করে রংপুর তো বটেই সারা দেশে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি করেছিলেন তৃতীয় লিঙ্গের রানি। সেবার ৮১ হাজার ৮৬১ ভোট পেয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জিএম কাদের নির্বাচিত হলেও তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে ২৩ হাজার ৩২৬ ভোট পেয়েছিলেন তৃতীয় লিঙ্গের আনোয়ার ইসলাম রানি।