১১ দলীয় জোট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর ক্ষমতা নিশ্চিত করার জন্য গঠিত হয়নি—এটি দেশের নিপীড়িত ও বঞ্চিত মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠার একটি যৌথ রাজনৈতিক উদ্যোগ। এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক। তিনি বলেন, এই জোটের লক্ষ্য কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিকে ক্ষমতায় বসানো নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্য, শোষণ ও জুলুমের শিকার জনগণকে তাদের প্রাপ্য ফিরিয়ে দেওয়া।
সোমবার (২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে গোপালগঞ্জ জেলা শহরের বাইপাস সড়কে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস আয়োজিত এক নির্বাচনী পথসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। পথসভায় স্থানীয় নেতাকর্মী ও সমর্থকদের উপস্থিতিতে তিনি ১১ দলীয় জোটের রাজনৈতিক দর্শন ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করেন।
মামুনুল হক বলেন, ১১ দলীয় জোট গঠিত হয়েছে জাতি, ধর্ম, বর্ণ কিংবা দলীয় পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রত্যয়ে। তার ভাষায়, “বাংলাদেশের প্রায় ১৮ কোটি মানুষের মধ্যে যারা বছরের পর বছর শোষিত, বঞ্চিত ও নিপীড়িত হয়েছে, এই জোট তাদের কণ্ঠস্বর হতে চায়। যার যে অধিকার, তাকে সেই অধিকার বুঝিয়ে দেওয়াই আমাদের অঙ্গীকার।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নির্বাচনের পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে একটি মহল জাল ভোট ও ভোট কারচুপির পরিকল্পনা করছে। তার দাবি, কোথাও কোথাও ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে মৃত ব্যক্তিদের তালিকা এবং প্রবাসীদের তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এর আগে এমন ঘটনাও ঘটেছে—যেখানে মৃত ব্যক্তির নামেও ভোট পড়েছে।
এ ধরনের অনিয়ম ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়ে মামুনুল হক বলেন, “এবার আর যেন কবর থেকে উঠে আসা কোনো ‘মুদ্দা’ ভোট দিতে না পারে। সে জন্য ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে জনগণকেই।” তিনি জানান, কেউ ভোট চুরি বা জালিয়াতির চেষ্টা করলে তাৎক্ষণিকভাবে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
পথসভা শেষে তিনি ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের পক্ষে জনসমর্থন আরও জোরদার করার আহ্বান জানান এবং শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকার দাবিও জানান।