কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) হিসেবে ঘোষিত বালিয়াড়িতে উচ্চ আদালতের নির্দেশনা ও জেলা প্রশাসনের স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও রাতের আঁধারে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। পরিবেশ সংরক্ষণে যেসব বিধিনিষেধ কার্যকর রয়েছে, সেগুলো কার্যত উপেক্ষা করেই চলছে এই নির্মাণকাজ—এমন চিত্র উঠে এসেছে সৈকতের সুগন্ধা পয়েন্ট এলাকায়।

বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) রাত আনুমানিক ৮টার দিকে সুগন্ধা পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, বালিয়াড়ির ওপর বিমানের আদলে একটি বড় আকারের অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। নির্মাণাধীন কাঠামোটির দৈর্ঘ্য প্রায় ৩০ ফুট এবং প্রস্থ প্রায় ১৫ ফুট বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন। অথচ জেলা প্রশাসনের নির্দেশনাবোর্ডে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে—সৈকতের বালিয়াড়িতে যেকোনো ধরনের ভ্রাম্যমাণ দোকান বা স্থাপনা স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ এবং আদেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও কীভাবে এই নির্মাণ চলছে—তা খতিয়ে দেখতে গিয়ে জেলা প্রশাসনের পর্যটন সেলের ম্যাজিস্ট্রেট (সহকারী কমিশনার) আজিম খান স্বাক্ষরিত একটি অনুমতিপত্রের তথ্য পাওয়া যায়। অনুমতিপত্র অনুযায়ী, ‘ব্র্যান্ড সলিউশন লিমিটেড’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২১ ডিসেম্বর থেকে ১ জানুয়ারি পর্যন্ত সুগন্ধা পয়েন্টের উত্তর পাশে অনুষ্ঠান পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়। তবে সেখানে ক্ষুদ্র আকারের এলইডি প্রদর্শনী (৫ ফুট বাই ৬ ফুট) ও ফটোবুথের কথা উল্লেখ থাকলেও বিমান আকৃতির বিশাল স্থাপনার কোনো নির্দিষ্ট মাপ বা বিবরণ নেই।

পরিবেশবাদীরা বলছেন, অনুমতিপত্রের শর্তের সঙ্গেও নির্মাণকাজের বাস্তব চিত্র সাংঘর্ষিক। ইয়ুথ এনভায়রনমেন্ট সোসাইটির প্রধান নির্বাহী ইব্রাহিম খলিল মামুন বলেন, ইসিএ এলাকায় এমন স্থাপনা পরিবেশ, জীববৈচিত্র্য ও সৈকতের স্বাভাবিক সৌন্দর্যের জন্য মারাত্মক হুমকি।

পর্যটকরাও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। পর্যটক মোস্তফা বলেন, সৈকত এমনিতেই ভিড়পূর্ণ, তার ওপর মাঝখানে এই ধরনের কাঠামো নির্মাণ সৈকতের উন্মুক্ত চরিত্র নষ্ট করছে।

নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে অনুমতির কথা বলা হলেও দায়িত্বশীলদের স্পষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দিলেও অনুমতিদাতা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। ঘটনায় প্রশাসনিক তদারকি ও পরিবেশ সুরক্ষার বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।