বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কেউ যদি চিলের মতো ঝাঁপিয়ে পড়ে ভোট ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করে, তাহলে জনগণকেই তার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। ভোটের অধিকার রক্ষায় নাগরিকদের পাহারাদার হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার ভোট আমি দেব, আপনার ভোট আপনি দেবেন—এই অধিকার কেউ কেড়ে নিতে চাইলে কঠোরভাবে প্রতিহত করতে হবে।”
মঙ্গলবার বিকেলে বাগেরহাটের খানজাহান আলী (রহ.)-এর মাজার মোড় সংলগ্ন মাঠে জামায়াতে ইসলামীর জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। দীর্ঘদিন ধরে ভোটাধিকার হরণ ও অনিয়মের সংস্কৃতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, বিগত বছরগুলোতে ‘আমার ভোট আমি দেব, তোমারটাও আমি দেব’—এমন ধারণা চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল, যা আর চলবে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, রাজনীতি যেন উত্তরাধিকারসূত্রে ক্ষমতা দখলের হাতিয়ার না হয়। “রাজার ছেলে রাজা হবে”—এই মানসিকতা ভেঙে দিয়ে যোগ্যতার ভিত্তিতে রাষ্ট্র পরিচালনার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠা করতে চায় জামায়াত।
বাগেরহাটের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ জেলার অনেক সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত রাখা হয়েছে। ২০১৫ সালে শরণখোলায় সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, ন্যূনতম সড়ক অবকাঠামোর অভাব তখন স্পষ্ট ছিল। জামায়াত ক্ষমতায় গেলে কোনো এলাকা কার প্রতিনিধির—তা বিবেচনা না করে ন্যায্য উন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
পররাষ্ট্র নীতির বিষয়ে জামায়াত আমির বলেন, বাংলাদেশ সবার সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চায়, তবে কোনো আধিপত্যবাদ মেনে নেওয়া হবে না। “বন্ধুর নামে প্রভুত্ব নয়”—এই নীতিতে ভবিষ্যৎ কূটনীতি পরিচালনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ’ ভোট মানে ফ্যাসিবাদ যেন আর ফিরে না আসে। প্রথম ভোট হবে গণভোটের পক্ষে, দ্বিতীয় ভোট হবে ন্যায় ও ইনসাফের পক্ষে—এই বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে জেলা জামায়াত ও ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতারা বক্তব্য দেন। শেষে বাগেরহাটের চারটি আসনের জোট প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দিয়ে দাড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বানের মধ্য দিয়ে জনসভার সমাপ্তি ঘটে।