মুন্সীগঞ্জ–৩ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়নকে কেন্দ্র করে তীব্র দ্বন্দ্ব সৃষ্টি হয়েছে দুই পক্ষের নেতাকর্মীদের মধ্যে। শুক্রবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত গজারিয়া উপজেলার জামালদী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় চলা এই সহিংসতায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণ ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে, যা স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, আসনটিতে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় কমিটির সমাজকল্যাণ সম্পাদক কামরুজ্জামান রতন। এ নিয়ে আপত্তি ছিল জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনের সমর্থকদের। রতনের নাম ঘোষণার পর থেকে ক্ষোভ বাড়ছিল মহিউদ্দিনপন্থীদের মধ্যে।

শুক্রবার সন্ধ্যায় রতনের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে মহিউদ্দিনের অনুসারীরা মশাল মিছিল বের করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। মিছিলকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া–পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। এ সময় বেশ কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরিত হয় এবং উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আলী হোসেনের গাড়ি ভাঙচুর করা হয়।

আহতদের মধ্যে পরিচয় পাওয়া গেছে—স্বাধীন (২৪), সাইদুল (২৫), দেলোয়ার হোসেন (৪৯), সাহিদা বেগম (৫৫), জাকির হোসেন (৪০) ও সিহাদ (১৭)। আহতদের মধ্যে স্বাধীন নামে একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন হামদর্দ জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. আশরাফ হোসেন রাজু। তিনি জানান, দু’জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।

সংঘর্ষের বিষয়ে রতনপন্থী জেলা বিএনপি আহ্বায়ক কমিটির সদস্য মাসুদ ফারুক বলেন, “রতনের মনোনয়ন পেয়ে এলাকাবাসী খুশি। আজকের ঘটনা আওয়ামী লীগের দালালদের উসকানিতে ঘটেছে।”

অন্যদিকে যুবদল নেতা আলী হোসেন অভিযোগ করেন, “সন্ত্রাসীরা আমার অফিস ও গাড়িতে হামলা করেছে। বাড়িতেও হামলার চেষ্টা হয়। আমাদের পক্ষের কয়েকজন এখনও হাসপাতালে।”

মনোনীত প্রার্থী কামরুজ্জামান রতন বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। হাসপাতালে থাকার সময় খবরটি শুনে মর্মাহত হয়েছি। জড়িতদের বিচার চাই এবং নেতাকর্মীদের বলি—দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে ঐক্যবদ্ধ থাকুন।”

গজারিয়া থানার ওসি আনোয়ার আলম আজাদ জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। এখন পর্যন্ত তিনজন আহতের তথ্য তারা নিশ্চিত করেছেন।