কুমিল্লার তিতাসে এক ঝগড়া ও প্রতিশোধের ঘটনায় শাশুড়ি হত্যার অভিযোগে জামাতা জামাল উদ্দিনকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। ঘটনার মূল কারণ ছিল তার স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া এবং শাশুড়ির কাছে বিষয়টি জানতে চাওয়া।

র‍্যাব ১১ সিপিসি ২-এর কোম্পানি অধিনায়ক মেজর সাদমান ইবনে আলম জানিয়েছেন, “গ্রেপ্তারকৃত জামাল উদ্দিন ঢাকার আশুলিয়ার ডেন্ডাবর এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তিতাস থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছিল। গোয়েন্দা নজরদারি ও তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে তাকে সনাক্ত করে অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

ঘটনার সূত্রপাত গত ১০ অক্টোবর। জামাল উদ্দিন তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনকে কেন্দ্র করে স্ত্রীর সঙ্গে ঝগড়া করেন। এই ঝগড়ার সময় তার মেয়ে মারিয়া আক্তার মারধরের শিকার হন এবং মাটিতে লুটিয়ে পড়ে জ্ঞান হারান। পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করেন।

পরবর্তীতে শাশুড়ি সুফিয়া বেগম (৭০) জামাল উদ্দিনের বাড়িতে এসে ঘটনার কারণ জানতে চান। এসময় জামাল ক্ষিপ্ত হয়ে শাশুড়িকে মারধর করে, এরপর বাড়ির পাশের খালে ডুবিয়ে হত্যা করেন। প্রতিবেশিরা হত্যাকাণ্ডের দৃশ্য দেখার পর এগিয়ে আসলে জামাল দৌড়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন এবং আত্মগোপনে যান।

ঘটনার পর র‍্যাব তদন্ত শুরু করে এবং তথ্য ও গোপন সূত্রের ভিত্তিতে অভিযানে সফল হয়। গ্রেপ্তারকৃত জামাল উদ্দিনকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তিতাস থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

র‍্যাবের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, “এ ধরনের হত্যাকাণ্ড ও সহিংস ঘটনায় অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধীদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনা হবে।”

স্থানীয়রা জানান, এ ধরনের ঘটনার কারণে এলাকার সাধারণ মানুষ চরম আতঙ্কে রয়েছে। শাশুড়ি হত্যার ঘটনায় পুরো এলাকা শোকাহত।