ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শরীফ ওসমান বিন হাদিকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় ‘দ্রুত, নিরপেক্ষ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ’ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান ফোলকার টুর্ক।

শুক্রবার এক বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, গত বছর বাংলাদেশে আন্দোলনের ‘খ্যাতিমান নেতা’ শরীফ ওসমান বিন হাদিকে হত্যার ঘটনায় তিনি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।

সবার প্রতি শান্ত থাকার এবং সহিংসতা পরিহারের আহ্বান জানিয়ে ফোলকার টুর্ক বলেন, “পাল্টা আক্রমণ ও প্রতিশোধ নেওয়া হলে তা বিভেদ আরও বাড়াতে এবং সবার অধিকার খর্ব করতে পারে।”

তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার প্রধান বলেন, “আমি হামলায় হাদির মৃত্যুর ঘটনার দ্রুত, নিরপেক্ষ, পুঙ্খানুপুঙ্খ ও স্বচ্ছ তদন্ত এবং যথাযথ প্রক্রিয়া মেনে দায়ীদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার আহ্বান জানাচ্ছি।”

জুলাই অভ্যুত্থান এবং আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে পরিচিতি পাওয়া হাদি ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন। গত শুক্রবার গণসংযোগের জন্য বিজয়নগর এলাকায় গিয়ে তিনি আক্রান্ত হন।

চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে গুলি করেন চলন্ত মোটরসাইকেলের পেছনে বসে থাকা আততায়ী। গুলিটি লাগে হাদির মাথায়।

গুরুতর আহত হাদিকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে অস্ত্রোপচার করার পর রাতেই তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে সোমবার দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে হাদিকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। বৃহস্পতিবার রাতে সেখানে তার মৃত্যুর খবর আসে।

এরপর খুনিদের বিচারের দাবিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় বিক্ষোভ। এরমধ্যেই একদল লোক মধ্যরাতে কারওয়ান বাজারে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারে ভাংচুর করে অগ্নিসংযোগ করে।

পরে রাত দেড়টা থেকে আড়াইটার মাঝামাঝি সময়ে ধানমন্ডিতে বাঙালি সংস্কৃতি চর্চার ঐতিহ্যবাহী সাংস্কৃতিক সংগঠন ছায়ানট ভবনে ব্যাপক ভাংচুর চালিয়ে আগুন দেওয়া হয়।

ফেব্রুয়ারিতে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণার প্রসঙ্গ টেনে ফোলকার টুর্ক বলেন, প্রত্যেকের নিরাপদে অংশগ্রহণ, শান্তিপূর্ণভাবে জনজীবন চালানো এবং ভিন্ন ভিন্ন মত প্রকাশ করার মত পরিবেশ তৈরি করা দরকার।

“মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখা, এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অস্থিতিশীলতা ঠেকানোর জন্য আমি কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি।”

মানবাধিকার সমুন্নত রাখা এবং আরও সহিংসতা প্রতিরোধে সরকার ও সব অংশীজনের সঙ্গে কাজ করতে জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।