চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা বলেছেন, নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা রোধে শুধু সভা-সম্মেলনে ভালো কথা বলা যথেষ্ট নয়। তিনি বলেন, সহিংসতা প্রায়ই আমাদের পরিবারের কোনো না কোনো সদস্যের মাধ্যমে ঘটে এবং এটি প্রতিরোধ করতে ব্যক্তিগত দায়বোধ ও বাস্তব পদক্ষেপ জরুরি।
মঙ্গলবার (২ ডিসেম্বর) আন্তর্জাতিক নারী নির্যাতন প্রতিরোধ পক্ষ উপলক্ষে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডিসি এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, “জেলখানায় মাদক মামলায় প্রায় তিন হাজার মানুষ সাজা ভোগ করছেন, কিন্তু মাদকাসক্তের সংখ্যা কমছে না। এটি প্রমাণ করে, শুধু আইন প্রয়োগের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়; আমাদের নিজেদের চরিত্র ও আচরণও সংশোধন করতে হবে।”
ডিসি জাহিদুল ইসলাম সকলকে আহ্বান জানান নারী ও শিশুর জন্য নিরাপদ পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার। তিনি বলেন, আগামী প্রজন্মকে নৈতিক শিক্ষা দিতে আমাদেরকে পূর্বসূরিদের সঠিক আচরণ ও মূল্যবোধ প্রদর্শন করতে হবে।
সকাল ৯:৩০ মিনিটে জেলা প্রশাসন ও মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে সার্কিট হাউস প্রাঙ্গণ থেকে বর্ণাঢ্য র্যালি শুরু হয়। র্যালিটি সার্কিট হাউস সম্মেলন কক্ষে পৌঁছে “নারী ও কন্যার প্রতি সহিংসতা বন্ধে ঐক্যবদ্ধ হই, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিত করি” প্রতিপাদ্য নিয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিন সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য দেন মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক আতিয়া চৌধুরী। জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. ফরিদুল আলম এবং জেলা শিশু বিষয়ক কর্মকর্তা মো. মোছলেহ উদ্দিন বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
মুক্ত আলোচনায় অংশ নেন প্রত্যাশীর প্রধান নির্বাহী মনোয়ারা বেগম, ইলমার প্রধান নির্বাহী জেসমিন সুলতানা পারু, স্বপ্নীল ব্রাইট ফাউন্ডেশনের মোহাম্মদ আলী সিকদার, ব্র্যাক, ইপসা, যুগান্তর, ঘাসফুল, বিটা, সিডিসি, উষা নারী উন্নয়ন সংস্থা ও অন্যান্য সংগঠনের প্রতিনিধিরা। বক্তারা অনলাইন নিরাপত্তা, প্রতিবন্ধী নারী ও প্রবাসী পরিবার সচেতনতা, গণপরিবহন ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ, এবং পরিবারভিত্তিক সহিংসতা প্রতিরোধের উপর গুরুত্ব দেন।