রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পরীক্ষানিরীক্ষার বিষয় নয়—এমন মন্তব্য করে কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলের শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম বলেছেন, অভিজ্ঞতা ছাড়া কাউকে দেশের দায়িত্ব দেওয়া যায় না। তার ভাষায়, সাধারণ চাকরির ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতা ছাড়া নিয়োগ দেওয়া হয় না, সেখানে রাষ্ট্র পরিচালনার মতো গুরুদায়িত্ব অনভিজ্ঞদের হাতে তুলে দেওয়া জাতির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
সোমবার বিকেলে লাকসাম পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের জেলে পাড়া মাঠে স্থানীয় বিএনপির আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। আবুল কালাম দাবি করেন, বিএনপি চারবার রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে এবং সংকটময় সময়ে দেশ পরিচালনায় দলটির দক্ষতা বারবার প্রমাণিত হয়েছে। বিপরীতে প্রতিপক্ষ একটি দলের কোনো রাষ্ট্র পরিচালনার অভিজ্ঞতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জনসভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস টেনে বলেন, ১৯৭১ সালে যারা এ দেশের মানুষের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল এবং স্বাধীনতার চেতনার বিরোধিতা করেছিল, আজ তারাই আবার রাষ্ট্রক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন দেখছে। তার অভিযোগ, একাত্তরে দেশের মানুষের ওপর নির্যাতনে যারা পাকিস্তানি বাহিনীকে সহযোগিতা করেছিল, তাদের হাতে রাষ্ট্রের দায়িত্ব তুলে দেওয়া মানে ইতিহাসের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা।
আবুল কালাম আরও বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে দেশের মানুষ প্রকৃত ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। এই ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আন্দোলনে বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে নির্মম নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। তিনি বলেন, তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হয়েও তাকে মিথ্যা মামলায় কারাবন্দি রাখা হয়েছে, চিকিৎসার সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি। তবুও তিনি আপোষ করেননি, জনগণের অধিকারের প্রশ্নে দৃঢ় অবস্থান বজায় রেখেছেন।
আগামী নির্বাচনের প্রসঙ্গে বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপিকে ভোট দিলে তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হবেন এবং তার নেতৃত্বে দেশে বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠিত হবে। পরিকল্পিত উন্নয়ন ও ন্যায্য শাসনের মাধ্যমে দেশের মানুষের জীবনমান বদলে যাবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।