রাজশাহী নগরীর পরিত্যক্ত রাজবাড়ি ভাঙার সময় নিচ থেকে বেরিয়ে এসেছে সুড়ঙ্গ। সেখান থেকে বের হচ্ছে পানি। এতে ভাঙার কাজ বন্ধ করে খবর দেয়া হয়েছে প্রত্নতত্ত অধিদপ্তরকে। ভবনটির প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য আছে কি না, তা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিসের কর্মচারীরা গিয়ে ভাঙার কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। সুড়ঙ্গ ঘিরে লাল নিশানা টানানো হয়েছে। অবশ্য পাশাপাশি দোতলা দুটি বাড়ির প্রায় সবই ভেঙে ফেলা হয়েছে। শুধু মেঝের নিচে থাকা সুড়ঙ্গের ইটগুলো তোলা বাকি আছে। ঐতিহাসিক এই বাড়িটি রাজশাহী নগরীর দরগাপাড়া অবস্থিত। রাজবাড়িটি বানিয়েছিলেন দিঘাপতিয়ার রাজা হেমেন্দ্র কুমার রায়ের ছেলে সন্দীপ কুমার রায়।
এখানে দুটি একতলা পাশে ছিল দোতলা ভবন। দোতলা ভবনের নিচ দিয়ে সুড়ঙ্গপথে একতলা ভবনে যাওয়ার রাস্তা ছিল। জনশ্রুতি রয়েছে, ১৮৬৯ থেকে ১৯৪২ সালে মহারানি হেমন্তকুমারী পুঠিয়া থেকে রাজশাহী শহরে এলে এই বাড়িতে থাকতেন। রাজপরিবার চলে যাওয়ার পর বাড়িটি পড়ে ছিল। বোয়ালিয়া ভূমি কার্যালয়ের তথ্যমতে, জমির আদি মালিক দিঘাপতিয়া স্টেট। ১৯৮১ সালে বাড়িটি অর্পিত সম্পত্তি ঘোষণা করা হয়। পরে ভাষাসৈনিক মনোয়ারা রহমানকে বাড়িটি ইজারা দেয় সরকার। ২০০৯ সালে মনোয়ারা রহমান মারা যাওয়ার পর বাড়িটি পরিত্যক্ত হয়ে যায়। মাসখানেক আগে স্থাপনাটি নিলামে বিক্রি করে দেয় জেলা প্রশাসন। স্থানীয় এক ব্যক্তি ১ লাখ ৫২ হাজার টাকায় সেটি কিনে ভাঙতে শুরু করেন। একতলা ভবন ভাঙতে গিয়ে সুড়ঙ্গটা উন্মুক্ত হয়।
বুধবার দুপুরে বাড়িটি পরিদর্শনে করেন হেরিটেজ রাজশাহীর সভাপতি মাহবুব সিদ্দিকী। তিনি বলেন, এ বাড়ির বয়স আনুমানিক ১২০ বছর। বাড়ির নিচে সুড়ঙ্গের মতো থাকলেও এটি আসলে সুড়ঙ্গ নয়। এটি প্রাচীন নির্মাণশৈলীর ছাপ। বাড়ির নিচ দিয়ে বাতাস চলাচলের জন্য এটি করা হতো। এখানে থাকা নাগলিঙ্গমের গাছটি খুবই বিরল বলেও জানান তিনি।
বোয়ালিয়া থানা ভূমি অফিসের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আরিফ হোসেন বলেন, জেলা প্রশাসন বাড়িটি এখন যেভাবে আছে সেভাবেই আপাতত রেখে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
রাজশাহীর অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মহিনুল ইসলাম বলেন, স্থাপনাটি খসে পড়ছিল। এ জন্য ভাঙার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। সুড়ঙ্গ সামনে আসার পর ভাঙার কাজ বন্ধ করে খবর দেয়া হয়েছে প্রত্নতত্ত অধিদপ্তরকে। ভবনটির প্রত্নতাত্ত্বিক মূল্য আছে কি না, তা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক গোলাম সারোয়ার বলেন, দিঘাপতিয়ার রাজা ছিলেন নাটোরের প্রাচীন জমিদার। তার পরিবার ১৮ শতক থেকে ২০ শতকের মাঝামাঝি এ অঞ্চল শাসন করে। এই ঐতিহাসিক এই স্থাপনা ভাঙার সিদ্ধান্ত দুঃখজনক।