বরগুনায় ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। বছরের শুরুতে জেলায় প্রতিদিন ১৫০–২০০ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হতো। তবে মঙ্গলবার (২২ ডিসেম্বর) মাত্র ২ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। বরগুনার ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে বর্তমানে ১৩ জন রোগী চিকিৎসাধীন। জেলার অন্যান্য উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেও নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা কমেছে।

বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ জানান, “মার্চ মাসে বরগুনাকে ডেঙ্গুর হটস্পট ঘোষণা করা হয়েছিল। বরিশাল বিভাগের আক্রান্ত রোগীর মধ্যে ৪৬ ভাগই বরগুনায়। গত দুই মাসে সচেতনতা বৃদ্ধিসহ কার্যক্রমে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বর্তমানে হাসপাতাল ও কমিউনিটি ক্লিনিকে সচেতন প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে।”

জেলার স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, এ বছর জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ৯,৭৩২ জন চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ৭,৪২৩ জন জেনারেল হাসপাতালে এবং বাকি ২,৩০৯ জন বিভিন্ন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৯,৭০৬ জন। মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে সরকারি হিসেবে মোট ১৫ জনের। এছাড়া দেশের অন্যান্য হাসপাতালে আরও অন্তত ৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য স্বাস্থ্য বিভাগ ও জেলা প্রশাসন ওয়ার্ড ভিত্তিক কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করছে। বিশেষ করে সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়ন, লাকুরতলা এলাকাতে লার্ভা উপস্থিতি পাওয়ার পর স্থানীয়দেরকে বিশেষ সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। বৃষ্টির পানি সংরক্ষণে নিরাপদ পদ্ধতি গ্রহণের উপর জোর দেওয়া হয়েছে।

বরগুনার স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, “সকলের সচেতনতা ও সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে ডেঙ্গুর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে। তবে পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে নিয়মিত সতর্কতা অব্যাহত রাখতে হবে।”