পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলায় নিখোঁজের দুই দিন পর পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, যা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের আবহ তৈরি করেছে। সোমবার দিবাগত গভীর রাতে প্রতিবেশীর গোয়ালঘরের খড়ের গাদার ভেতর থেকে একটি ব্যাগে ভরা অবস্থায় শিশুটির নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত শিশুর নাম রাইয়ান মল্লিক। সে ভাণ্ডারিয়া উপজেলার ইকড়ি ইউনিয়নের আতরখালী গ্রামের প্রবাসী রাসেল মল্লিকের ছেলে। স্থানীয় একটি নূরানী কিন্ডারগার্টেনে শিশু শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল রাইয়ান। পরিবার ও প্রতিবেশীদের কাছে সে ছিল হাসিখুশি ও চঞ্চল স্বভাবের একটি শিশু। এমন মর্মান্তিক পরিণতি কেউ কল্পনাও করতে পারেনি বলে জানান স্বজনরা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেলে সবার অজান্তে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হয় রাইয়ান। সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হলেও শিশুটি ফিরে না আসায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েন পরিবারের সদস্যরা। সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি। পরদিন রোববার শিশুটির মা তন্নী আক্তার ভাণ্ডারিয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।
অভিযোগ পাওয়ার পর ভাণ্ডারিয়া থানা পুলিশ ও ডিবি পুলিশের একটি দল এলাকায় অনুসন্ধান শুরু করে। তদন্তের একপর্যায়ে সোমবার রাত আনুমানিক ১২টার দিকে প্রতিবেশী এক গৃহস্থের গোয়ালঘরের খড়ের গাদার ভেতরে সন্দেহজনক একটি ব্যাগ দেখতে পান পুলিশ সদস্যরা। ব্যাগ খুলতেই ভেতরে পাওয়া যায় রাইয়ানের মরদেহ।
নিহত শিশুর পরিবারের দাবি, পারিবারিক বিরোধের জেরে প্রতিপক্ষ চাচা আব্দুল কাদের মল্লিক এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। তারা অভিযোগ করেন, শিশুটিকে হত্যার পর লাশ গোপন করতে খড়ের গাদার ভেতরে ব্যাগে ভরে রাখা হয়।
ভাণ্ডারিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা দেওয়ান জগলুল হাসান জানান, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পিরোজপুর জেলা মর্গে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক তদন্ত চলছে এবং ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে। নিহত শিশুর মা বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।