পটুয়াখালীর মানুষের আধুনিক চিকিৎসাসেবার আশ্রয় হওয়ার কথা ছিল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালটি। কিন্তু উদ্বোধনের এক যুগ পরও হাসপাতালটি চালু না হওয়ায় হতাশ রোগীরা। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণকাজ এখনো অসমাপ্ত, ফলে জেলার আট উপজেলার মানুষ ভরসা রাখছেন পুরোনো ২৫০ শয্যার জেনারেল হাসপাতালের ওপর যেখানে প্রতিদিন গাদাগাদি করে চিকিৎসা নিচ্ছেন তিনগুণেরও বেশি রোগী।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ২৫০ শয্যার জায়গায় চিকিৎসা নিচ্ছেন প্রায় ৮০০ রোগী। শিশু ওয়ার্ডে ৪০ শয্যার স্থলে ভর্তি রয়েছে ২০০ শিশু। একই অবস্থা সার্জারি ও গাইনী ওয়ার্ডেও। জায়গা না থাকায় করিডোর, বারান্দা ও ফ্লোরেই চলছে চিকিৎসা।
শিশুর মা মুক্তা বেগম বলেন, ছেলেকে ভর্তি করিয়েছি কিন্তু কোনো বেড পাইনি। এখন মেঝেতে শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছি। অন্যদিকে টাইফয়েডে আক্রান্ত রোগী ইউসুফ হাওলাদার জানান, বারান্দায় জায়গা পেয়েছি, কিন্তু ফ্যান-বাতি কিছুই নেই। রোদ-বৃষ্টি দুটোই লাগে, খুব কষ্ট হয়।
রোগীরা জানায়, বারান্দা ও আশপাশের ড্রেনে মশার উপদ্রব ভয়াবহ। ফলে ডেঙ্গুর আশঙ্কা বেড়েছে। স্থানীয়রা বলছেন, নতুন ভবন চালু না হওয়ায় জনদুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।
২০১৪ সালে ৫০০ শয্যা বিশিষ্ট আধুনিক হাসপাতাল নির্মাণ প্রকল্প অনুমোদন দেয় সরকার। ব্যয় ধরা হয় ৫৪৬ কোটি টাকা, কাজ শুরু হয় ২০১৬ সালে, আর শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০২০-এ। কিন্তু ভূমি জটিলতা, করোনা মহামারি ও প্রশাসনিক ধীরগতিতে তিন দফা সময় বাড়ানো হয়। বর্তমানে ব্যয় বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬৫১ কোটি টাকায়, আর সময়সীমা গিয়েছে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত।
প্রকল্প পরিচালক ড. এস. এম. কবির হাসান বলেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে ৭০০ রোগীর চিকিৎসা চলছে এটা মানবিক নয়। আশা করছি দুই মাসের মধ্যেই নতুন ভবনে স্থানান্তর সম্ভব হবে।
হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. দিলরুবা ইয়াসমিন লিজা জানান, গণপূর্তের ধীরগতির কারণে আমরা নির্ধারিত সময়েও ভবন হস্তান্তর পাইনি। এখনো বিদ্যুৎ সংযোগ ও সাবস্টেশন স্থাপনের কাজ বাকি।
এ বিষয়ে গণপূর্ত বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী অমিত কুমার বিশ্বাস বলেন, ৯৩ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। বিদ্যুৎ সংযোগ পেলেই হাসপাতাল ভবন ও একাডেমিক ভবন চালু করা যাবে। ২০২৬ সালের জুনের মধ্যেই প্রকল্প হস্তান্তরের লক্ষ্য রয়েছে।