বগুড়ার নন্দীগ্রাম উপজেলায় বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীদের মধ্যে সহিংস সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১০ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার পারশুন গ্রামে পাল্টাপাল্টি হামলা ও ভাঙচুরে অন্তত তিনজন আহত হয়েছেন। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ মোতায়েন করা হয়।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন মাঝগ্রাম ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মাসুদ রানা, তার ভাই ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা রবিউল ইসলাম এবং ইসলামী ছাত্রশিবির বগুড়া শহর শাখার সাথী আসাদুল্লাহ হিল গালিব। তিনজনই বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, মাসুদ রানার অবস্থা তুলনামূলক গুরুতর।

বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, সোমবার রাতে ভোটকে প্রভাবিত করতে পারশুন গ্রামের আব্দুল আজিজের বাড়িতে অর্থ লেনদেন চলছিল—এমন সন্দেহে তারা সেখানে যান। তাদের দাবি, ওই বাড়িতে স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা বেলালসহ জামায়াতের কয়েকজন কর্মী ভোটারদের মধ্যে টাকা বিতরণ করছিলেন। এ সময় দুজনকে আটক করে ইউনিয়ন বিএনপি সভাপতি মাসুদ রানার বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয় এবং পুলিশকে বিষয়টি জানানো হয়।

তবে বিএনপির দাবি অনুযায়ী, পুলিশের উপস্থিতির মধ্যেই জামায়াতের প্রায় দুই শতাধিক নেতাকর্মী লাঠিসোটা ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। তারা মাসুদ রানা ও তার ভাইকে মারধর করে এবং তিনটি বাড়ি ও একটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে। পাশাপাশি আটক করা দুজনকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। হামলার একটি ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়েছে। জামায়াত নেতারা দাবি করেন, তাদের কোনো কর্মী অর্থ বিতরণে জড়িত ছিলেন না। বরং বিএনপির একটি মিছিল থেকে উসকানি ছাড়াই তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালানো হয় এবং মিথ্যা অভিযোগে কয়েকজনকে আটকে রেখে মারধর করা হয়। আহত শিবির নেতা আসাদুল্লাহ হিল গালিব বলেন, নির্বাচনি প্রচারণা শেষে ফেরার পথে তাকে মারধর করা হয়েছে।

বগুড়া-৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী মো. মোশাররফ হোসেন ঘটনার জন্য জামায়াতকে দায়ী করলেও জামায়াত প্রার্থী মোস্তফা ফয়সাল পারভেজ সব অভিযোগ অস্বীকার করে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

নন্দীগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।