কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদের দানবাক্স খুলতেই আবারও উঠে এলো বিস্ময় ও আবেগঘন নানা বার্তা। টানা তিন মাস ২৭ দিন পর শনিবার (২৭ ডিসেম্বর) ভোরে মসজিদের ১৩টি দানবাক্স খুলে পাওয়া গেছে রেকর্ড পরিমাণ দান—৩৫ বস্তা টাকা, বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণালঙ্কার এবং অসংখ্য চিঠি ও চিরকুট। এর মধ্যেই একটি চিরকুট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যেখানে লেখা ছিল— “হাদী হত্যার প্রকাশ্যে বিচার চাই।”

মসজিদ কর্তৃপক্ষ সূত্র জানায়, শনিবার সকাল সাড়ে ৭টা থেকে শুরু হয় দানবাক্সের টাকা গণনার কার্যক্রম। এতে অংশ নেন প্রায় ৫০০ জন স্বেচ্ছাসেবক ও কর্মকর্তা। দানবাক্সে পাওয়া চিরকুটগুলোর মধ্যে কেউ লিখেছেন ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া, কেউ চাকরি, কেউ শিক্ষাজীবনের সাফল্য কামনা করেছেন, আবার কেউ সমাজ ও রাষ্ট্রসংক্রান্ত নানা দাবিও তুলে ধরেছেন।

ভাইরাল হওয়া ওই চিরকুটটি বেনামে লেখা। এতে কোনো পরিচয় না থাকলেও বার্তাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নানা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেকেই এটিকে জনমনের ক্ষোভ ও ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন। এর আগেও পাগলা মসজিদের দানবাক্সে পাওয়া রাজনৈতিক ও সামাজিক বক্তব্যসংবলিত চিরকুট আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

দানবাক্সে পাওয়া অন্যান্য চিরকুটে রয়েছে ব্যক্তিগত আকুতি। এক নারী তার স্বামীর জন্য ভালো চাকরির প্রার্থনা করেছেন, কেউ ভালো কলেজে ভর্তির সুযোগ চেয়েছেন, কেউ আবার পরিবারে শান্তি ও সুস্থতা কামনা করেছেন। এসব চিরকুট পাগলা মসজিদকে শুধু দানের স্থান নয়, বরং মানুষের বিশ্বাস ও আবেগ প্রকাশের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত করেছে।

টাকা গণনার কাজে উপস্থিত ছিলেন কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মিজাবে রহমত, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) মোহাম্মদ নাহিদ হাসান খানসহ প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। জেলা প্রশাসক ও পাগলা মসজিদ কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ আসলাম মোল্লা জানান, দানকৃত অর্থ দিয়ে একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন মসজিদ কমপ্লেক্স নির্মাণের পরিকল্পনা চলছে, যেখানে একসঙ্গে প্রায় ৩০ হাজার মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারবেন।

নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত পাগলা মসজিদে প্রতি তিন মাস অন্তর দানবাক্স খোলা হয়। তবে এবার সময় একটু বেশি হওয়ায় দানের পরিমাণও রেকর্ড ছাড়িয়েছে। দানের টাকার পাশাপাশি পাওয়া চিরকুটগুলো যেন মানুষের আশা, কষ্ট ও প্রতিবাদের নীরব দলিল হয়ে উঠেছে।