ভুক্তভোগী কৃষকদের একজন রাজশাহীর তানোর উপজেলার মুণ্ডুমালা পৌরসভার শিবরামপুর গ্রামের প্রশান্ত কুমার। তিনি আলুর আবাদের জন্য তিন মাসের জন্য বিঘা প্রতি ১২ হাজার টাকা দরে ১৮৫ বিঘা জমি লিজ (ইজারা) নিয়েছেন। ট্রাক্টর দিয়ে জমি প্রস্তুতও করেছেন। কিন্তু ডিলারদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও সরকার নির্ধারিত মূল্যে সার পাচ্ছেন না। ফলে আটকে আছে বীজ বপন।
প্রশান্ত কুমার জানান, প্রতি বিঘা জমিতে আলু চাষে তাদের খরচ হয় ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা। সময়মতো সার না পাওয়ায় কাঙ্ক্ষিত ফলন নিয়ে এখন দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তার। অভিযোগ রয়েছে, সরকারি গুদামে সারের পর্যাপ্ত মজুদ থাকার পরও নির্ধারিত দামে সার দিতে গড়িমসি করছেন ডিলাররা। মূলত সিন্ডিকেট করে ডিলাররা সাব-ডিলারদের কাছে বেশি দামে সার বিক্রি করে দিচ্ছেন। আর এই সুযোগে সাব-ডিলাররা ৫০ কেজির প্রতি বস্তা সারে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি দাম আদায় করছেন। সরকার নির্ধারিত সারের মূল্য তালিকা অনুযায়ী ইউরিয়া প্রতি কেজি ২৭ টাকা (৫০ কেজির বস্তা ১৩৫০ টাকা), ডিএপি প্রতি কেজি ২১ টাকা (৫০ কেজির বস্তা ১০৫০ টাকা), এমওপি প্রতি কেজি ২০ টাকা (৫০ কেজির বস্তা ১০০০ টাকা) এবং টিএসপি প্রতি কেজি ২৭ টাকা (৫০ কেজির বস্তা ১৩৫০ টাকা) হওয়ার কথা। কিন্তু মাঠ পর্যায়ের চিত্র ভিন্ন।
বাড়তি দাম ও সংকটের বিষয়ে জানতে চাইলে ‘মামুন ট্রেডার্স’ ও ‘নাবিলা ট্রেডার্স’-এর ডিলারদের কেউ কেউ অভিযোগ অস্বীকার করেন। আবার অনেকে গণমাধ্যমের সামনে কথা বলতে রাজি হননি। তবে রাজশাহী জেলার অতিরিক্ত উপ-পরিচালক পাপিয়া রহমান মৌরী দাবি করেন, জেলায় সারের কোনো সংকট নেই। তিনি বলেন, ‘কৃষকদের কাছ থেকে সারের দাম বেশি নেয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে সংশ্লিষ্ট ডিলারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।’ কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, জেলায় মোট ২২০ জন সার ডিলার রয়েছেন। বর্তমানে জেলার দুটি গুদামের মধ্যে বাফার গুদামে ৯ হাজার মেট্রিক টন ইউরিয়া সার মজুদ আছে। এছাড়া বিএডিসি’র গুদামে টিএসপি ২১৭ মেট্রিক টন, ডিএপি ১ হাজার ৪৬৫ মেট্রিক টন ও এমওপি ৩ হাজার ৬৭২ মেট্রিক টন মজুদ রয়েছে।