যশোরের ঝিকরগাছায় ভোট চাইতে গিয়ে জামায়াতে ইসলামীর নারী কর্মীরা হামলা ও শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। যশোর-২ (ঝিকরগাছা–চৌগাছা) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ মোসলেহ উদ্দিন ফরিদ এ অভিযোগ করেছেন। তিনি দাবি করেন, প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সমর্থকেরা পরিকল্পিতভাবে এ হামলা চালিয়েছে।

রোববার (২৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় যশোর প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ডা. ফরিদ বলেন, দুপুরের দিকে ঝিকরগাছা পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কীর্তিপুর গ্রামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট চাইতে যান ঝিকরগাছা মহিলা জামায়াতের একদল নারী কর্মী। তাদের মধ্যে ছিলেন মহিলা জামায়াতের আমির জোৎস্না খাতুনসহ আরও কয়েকজন নেতাকর্মী।

অভিযোগ অনুযায়ী, ওই সময় ধানের শীষ প্রতীকের কয়েকজন সমর্থক ১০ থেকে ১৫ জনের একটি দল নিয়ে নারী কর্মীদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। হামলাকারীরা শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে বলে অভিযোগ করা হয়। এ সময় নারী কর্মীদের মোবাইল ফোন ও ভ্যানিটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং কয়েকটি মোবাইল ফোন ভাঙচুর করা হয়।

ডা. ফরিদ আরও জানান, এ ঘটনায় অন্তত ১০ জন নারী কর্মী আহত হন। তারা প্রাথমিক চিকিৎসা গ্রহণ করেছেন। পাশাপাশি তিনি অভিযোগ করেন, ওই এলাকায় প্রতিপক্ষ প্রার্থীর সমর্থকেরা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘন করে রঙিন পোস্টার ও ব্যানার ব্যবহার করছে এবং সাধারণ ভোটারদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, ঘটনার বিষয়ে জেলা রিটার্নিং অফিসার এবং ঝিকরগাছা থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান তিনি।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি প্রার্থী সাবিরা নাজমুল মুন্নি। তিনি বলেন, জামায়াতের নারী কর্মীরা তার বাড়িতে ভোট চাইতে এসেছিলেন। তখন তার কর্মীরা কেবল প্রশ্ন করেছিলেন, কেন তারা প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর বাড়িতে প্রচারে এসেছেন। হামলা, শ্লীলতাহানি বা মোবাইল ছিনিয়ে নেওয়ার কোনো ঘটনা ঘটেনি বলেও দাবি করেন তিনি।