গাজীপুরের সদর উপজেলার বাঘেরবাজার এলাকায় অবস্থিত স্ট্যান্ডার্ড ফিনিক্স অয়েল কোং কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় প্রতিষ্ঠানটির গুরুতর অনিয়ম ও নিরাপত্তাহীনতার চিত্র উঠে এসেছে। ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের কর্মকর্তা কাজী নাজমুজ্জামান জানিয়েছেন, কারখানাটিতে অগ্নি নিরাপত্তা সংক্রান্ত ন্যূনতম প্রস্তুতিও ছিল না। আগুন প্রতিরোধের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা, জরুরি সেফটি প্ল্যান বা আপডেটেড লাইসেন্স কোনোটিই মানা হয়নি বলে প্রাথমিক তদন্তে ধারণা পাওয়া গেছে।

বুধবার (১৯ নভেম্বর) বিকেলে ঘটনাস্থলে পরিদর্শন করতে গিয়ে তিনি আরও বলেন, প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স সংক্রান্ত নথিপত্রে চরম বিশৃঙ্খলা রয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স থাকলেও তা দীর্ঘদিন ধরে নবায়ন করা হয়নি। এতে কারখানায় ঝুঁকি বাড়লেও কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দেয়নি।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, কারখানায় মশা প্রতিরোধক কেমিকেল উৎপাদন করা হতো। সেখানে কেরোসিনজাত দ্রব্যের সঙ্গে ব্লিচিং পাউডারের বিক্রিয়ায় নতুন কেমিকেল তৈরি করা হচ্ছিল। হঠাৎই ওই বিক্রিয়া প্রক্রিয়ায় আগুন ধরে যায়। প্রথমে উৎপাদন স্থান থেকে আগুন দ্রুত বাইরে মাঠ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। সেখান থেকে কয়েক মিনিটের মধ্যে এটি ফিনিশিং গুদাম এবং প্রশাসনিক ভবনে পৌঁছে যায়।

সংবাদ পাওয়ার পরপরই রাজেন্দ্রপুর মডার্ন ফায়ার স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে। পরে আগুনের তীব্রতা বাড়ায় জয়দেবপুর ও শ্রীপুরসহ আশপাশের আরও পাঁচটি ইউনিট যুক্ত হয়। টানা তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর আগুন সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে আনে সাতটি ইউনিটের সদস্যরা।

এদিকে ঘটনার সময় কারখানার নিরাপত্তাকর্মী, শ্রমিক ও কর্মকর্তারা প্রথমে নিজেরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় তারা ব্যর্থ হন এবং হালনাগাদ নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, লাইসেন্স জটিলতা, নিরাপত্তাহীন পরিবেশ ও কেমিকেল ব্যবহারে অবহেলার কারণে এ ধরনের দুর্ঘটনা যেকোনো সময় বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। তারা কারখানাটির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া এবং পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণের সুপারিশ করেন।