কক্সবাজারে হেলমেট পরিহিত মোটরসাইকেল আরোহী দুর্বৃত্তদের গুলিতে আহত যুবদল নেতা মোহাম্মদ ফারুক (৩৪) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেছেন। রোববার (২৮ ডিসেম্বর) রাত ৯টায় পশ্চিম লারপাড়া এলাকায় কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। ফারুক কক্সবাজার বৃহত্তর বাস টার্মিনাল যুবদল ইউনিটের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং কবির আহমেদের ছেলে।

ফারুক ৯ ডিসেম্বর রাত ৮টা ৪০ মিনিটে বাইপাস সড়কে তার দলের সাবেক সভাপতি সাইফুল ইসলামসহ গুলিবিদ্ধ হন। আহত সাইফুল ইসলাম এখনও চট্টগ্রামের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন, তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। ফারুক কোমরের নিচে ও পিঠে দুটি বুলেটবিদ্ধ ছিলেন। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, হামলায় ব্যবহৃত হয়েছে ৭.৬৫ ক্যালিভারের বিদেশি পিস্তল। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে কথিত শুটার হিসেবে কামরুল হাসান বাবুর সম্পৃক্ততা ধরা পড়েছে।

পরিবার ও দলীয় নেতাকর্মীরা দাবি করেছেন, হামলা পূর্ব বিরোধের জেরেই সংঘটিত হয়েছে। কক্সবাজার জেলা যুবদলের সভাপতি সৈয়দ আহমদ উজ্জ্বল জানান, তিন বছর আগে ব্যাডমিন্টন খেলা নিয়ে বাগবিতণ্ডার কারণে সাইফুলের ভাই ও চাচাতো ভাইকে হত্যা করা হয়েছিল। ওই হত্যাকাণ্ডের সংশ্লিষ্টরা ৯ ডিসেম্বরের হামলার সঙ্গে যুক্ত বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এই ঘটনায় ১০ ডিসেম্বর কক্সবাজার সদর মডেল থানায় হত্যা চেষ্টার মামলা দায়ের করা হয়। ১৯ ডিসেম্বর পুলিশ পর্যটক বেশে লামার মাতামুহুরি রিভার ভিউ রিসোর্ট থেকে ৫ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন—কামরুল হাসান বাবু (২৬), ইমরান উদ্দিন খোকা ওরফে আরিয়ান খোকা (২৫), আব্দুল কাইয়ুম (৩৩), মো. সাকিব (২০) এবং মাসুদ হাসান বকুল (১৮)। তারা বর্তমানে কক্সবাজার জেলা কারাগারে রয়েছেন।

ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন জানান, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ তৎপর রয়েছে এবং মামলাটিকে হত্যা মামলায় রূপান্তরের জন্য আদালতে আবেদন করা হবে। বাকিদেরও দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।