কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে ফায়ার সার্ভিসের গাড়িচালক জাহিদ আহমেদের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) দুপুরে নিজের ভাড়া বাসার বারান্দায় তাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তার স্ত্রী। এরপর পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

নিহত জাহিদ রংপুরের কাউনিয়া উপজেলার মোহাম্মদ আলী শহীদের ছেলে। তিনি স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে নাগেশ্বরী পৌরসভার শামসুল হক ব্যাপারীর বাড়িতে দুই বছর ধরে ভাড়া থাকতেন।

স্থানীয়দের বরাতে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে জাহিদের স্ত্রী তাদের ছয় বছরের সন্তানকে নিয়ে স্কুলে যান। একই সময়ে জাহিদও নিয়মিত মতো ডিউটিতে বের হন। পরে দুপুরে বাসায় ফিরে স্ত্রী দেখেন, বারান্দার চালের কাঠে রশি বেঁধে ঝুলে আছেন জাহিদ। সঙ্গে সঙ্গে তিনি বাড়ির মালিককে ডাকেন এবং খবর দেন পুলিশকে।

বাড়ির মালিক শামসুল হক বলেন, “সকালে সবাই স্বাভাবিকভাবে বের হয়েছিল। কে জানত এত বড় ঘটনা ঘটবে!” তিনি জানান, জাহিদকে কখনো অস্বাভাবিক আচরণ করতে দেখেননি।

পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ১০–১২ লাখ টাকা ঋণের বোঝা জাহিদকে মানসিকভাবে চাপে ফেলেছিল। হতাশা থেকেই হয়তো তিনি জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।

নাগেশ্বরী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রেজাউল করিম রেজা বলেন, “প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা হিসেবে মনে হচ্ছে। তবে ময়নাতদন্তের রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত কিছু নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। মরদেহ কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।”

ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দিতে স্থানীয়রা ভিড় করছেন।