মাগুরার শ্রীপুরে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মীকে থাপ্পড় মারার অভিযোগে এক গ্রাহকের বাড়ির বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, বিষয়টি ছিল বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের ‘অশোভন আচরণের প্রতিবাদ’। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) উপজেলার শ্রীকোল ইউনিয়নের বরিশাট গ্রামে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সেদিন সকালে মাগুরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি–শ্রীপুর জোনাল অফিসের পরিচ্ছন্নতা কর্মীরা লাইন সঞ্চালনের নিরাপত্তার জন্য গাছ পরিষ্কার অভিযান চালাচ্ছিলেন। এ সময় গ্রাহক হালিম মোল্লার বাড়ির পাশে থাকা কয়েকটি ফলজ গাছ এমনভাবে কাটা হয় যে গাছগুলো আর টিকে থাকার মতো অবস্থায় ছিল না।
গাছ বাঁচাতে অনুরোধ করলে কর্মীরা হালিম মোল্লার স্ত্রীর সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেন। পরে হালিম মোল্লা ঘটনাস্থলে এসে প্রতিবাদ জানালে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
হালিম মোল্লা অভিযোগ করে বলেন, “আমার স্ত্রী শুধু বলেছিল গাছগুলো যেন পুরোপুরি না কাটা হয়, তাতেই ওরা বাজে মন্তব্য করে। আমি প্রতিবাদ জানালে কোনো নোটিশ ছাড়াই আমাদের বাড়ির সংযোগ কেটে দেয়। তিন দিন ধরে অন্ধকারে আছি।”
এ বিষয়ে শ্রীপুর জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (ডিজিএম) মো. শামীম হোসেন বলেন, “পরিচ্ছন্নতা কর্মীকে থাপ্পড় মারার পর সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। পরিবারটিকে অফিসে ডাকা হয়েছে। রোববার আলোচনার পর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”
স্থানীয়দের মতে, বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীদের এই আচরণ ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’। তারা বলেন, “সেবার নামে জনগণকে হয়রানি করা হচ্ছে। এমন ঘটনায় প্রশাসনের দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। অনেকে বিষয়টি ফেসবুকে শেয়ার করে পল্লী বিদ্যুৎ বিভাগের বিরুদ্ধে অনিয়ম ও মনমর্জি আচরণের অভিযোগ তুলেছেন। স্থানীয়রা ভুক্তভোগী পরিবারের বিদ্যুৎ সংযোগ দ্রুত পুনঃস্থাপন ও ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
ইএফ/