সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার সুন্দরবনসংলগ্ন সীমান্ত এলাকায় যৌথ অভিযান চালিয়ে আন্তঃসীমান্ত মাদক ও সন্ত্রাসী চক্রের হোতা আরজ খানসহ তিনজনকে আটক করেছে সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। শুক্রবার রাতে কালিগঞ্জ সেনা ক্যাম্প থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়। এর আগে, বৃহস্পতিবার গভীর রাতে কৈখালী ইউনিয়নের দুর্গম এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে ধৃতরা হলেন পশ্চিম কৈখালী গ্রামের শেখ শামসুর রহমানের ছেলে আরজ খান (৪০), একই এলাকার মৃত মতিয়ার গাজীর ছেলে সোহরাব গাজী (৪০) এবং ফজলুল হক গাজীর ছেলে ফরহাদ হোসেন বাবু (৩৬)। দীর্ঘদিন ধরেই এ তিনজন সুন্দরবনের গভীর অঞ্চলকে আড়াল হিসেবে ব্যবহার করে মাদক পরিবহন, চোরাচালান, জলদস্যুতা এবং স্থানীয়দের ভয়ভীতি দেখিয়ে চাঁদাবাজিসহ নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছিল বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, আরজ খানের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় মাদক চোরাচালান, সন্ত্রাসী কার্যক্রম ও গণধর্ষণসহ একাধিক মামলা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তার দল আরও সক্রিয় হয়ে ওঠায় নজরদারি ও গোয়েন্দা তৎপরতা জোরদার করা হয়। অবশেষে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয় যৌথ বাহিনী।
অভিযানের সময় তাদের কাছ থেকে ১৩৫ পিস ইয়াবা, দুইটি মোটরসাইকেল এবং বিভিন্ন অপরাধে ব্যবহৃত কয়েকটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। যৌথ বাহিনীর দাবি, এই চক্রটি সীমান্ত পেরিয়ে মাদকদ্রব্য এনে সুন্দরবনের গভীর এলাকায় মজুত করত এবং পরে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করত। এ কারণে কৈখালী, ভেটখালী ও আশপাশের এলাকায় তারা দীর্ঘদিন ধরে আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি করেছিল।
স্থানীয়দের মতে, দুর্ধর্ষ এই দলের পতনে এলাকাবাসীর মাঝে স্বস্তি নেমে এসেছে। তারা আশা করছেন, এই অভিযান সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে নতুন দৃষ্টান্ত তৈরি করবে।
গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তিনজনকে শ্যামনগর থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলছে এবং আদালতে তোলা হবে।