ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার বালিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী কর্মকর্তা (তহশিলদার) আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে ঘুষ গ্রহণ, অর্থ না পেয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে নামজারি বাতিল এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ভুল্লী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কাজিমা আক্তার বালিয়া ইউনিয়নের সিঙ্গিয়া কলোনিপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি তার ভোগদখলে থাকা জমির নামজারির জন্য ভূমি অফিসে আবেদন করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তদন্ত শেষে তহশিলদার আবুল কালাম আজাদ প্রথমে জমিটি আবেদনকারীর দখলে নেই বলে দাবি করেন। একইসঙ্গে নামজারি অনুমোদনের শর্ত হিসেবে ৫০ হাজার টাকা ঘুষ দাবি করেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, এ দাবির প্রমাণ হিসেবে একটি কাগজে নিজের ব্যক্তিগত বিকাশ নম্বর লিখে ভুক্তভোগীর হাতে দেন তিনি।

ভুক্তভোগী কাজিমা আক্তার প্রথম দফায় ওই বিকাশ নম্বরে ২০ হাজার টাকা পাঠান। পরবর্তী সময়ে বাকি ৩০ হাজার টাকা আদায়ের জন্য তহশিলদারের ব্যক্তিগত সহকারী মাজেদুলের মাধ্যমে চাপ দেওয়া হয়। তবে বাকি টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তহশিলদার ‘দখল নাই’ উল্লেখ করে একটি মিথ্যা তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন এবং নামজারির আবেদন বাতিল করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

নামজারি বাতিলের কারণ জানতে ভূমি অফিসে গেলে ভুক্তভোগীকে নানা অজুহাতে হয়রানি করা হয়। পরে বিষয়টি নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে কাজিমা আক্তার জেলা প্রশাসকসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের ভিত্তিতে জেলা প্রশাসক তদন্তের নির্দেশ দিয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি)-কে দায়িত্ব দিলে তহশিলদার ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর থেকেই ভুক্তভোগী পরিবারকে নানাভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে।

ভুক্তভোগী কাজিমা আক্তারের ছেলে নুরে আলম সুজন জানান, ঘুষ ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযোগ করায় তহশিলদার ও তার সহযোগীরা তাদের পরিবারকে হুমকি দিয়ে আসছে। ব্যক্তিগত ফোনে কল, বাজারে প্রকাশ্যে ভয় দেখানোসহ বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতায় ভুগে তিনি বাধ্য হয়ে ভুল্লী থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

এ ঘটনায় আরও কয়েকজন সেবাগ্রহীতা একই ধরনের অভিযোগ তুলেছেন। রুবেল হোসেন বলেন, তার দাদার ক্রয়কৃত জমির খাজনা দেওয়ার জন্য গেলে প্রথমে ৭০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। পরে দর কষাকষির মাধ্যমে ৪০ হাজার টাকা নিয়ে খাজনা কমিয়ে দেওয়া হয়। ইসমাইল হোসেন জানান, সব কাগজ ঠিক থাকার পরও তার নামজারি বাতিল করা হয়েছে এবং দীর্ঘদিন ধরে তিনি হয়রানির শিকার হচ্ছেন। অন্য এক সেবাগ্রহীতা খোকন বলেন, অতীতেও একই তহশিলদারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছিল, কিন্তু কার্যকর কোনো ব্যবস্থা হয়নি।

অভিযোগ প্রসঙ্গে তহশিলদার আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, জেলা প্রশাসকের নির্দেশে তিনি গণমাধ্যমে কোনো বক্তব্য দিতে পারবেন না।

ভুল্লী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নুরে আলম সিদ্দিকী জানান, সাধারণ ডায়েরিটি গ্রহণ করা হয়েছে এবং অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনে ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।

দুদকের ঠাকুরগাঁও জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আজমির শরিফ মারজী বলেন, তহশিলদারের বিরুদ্ধে একটি লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. আশাদুল হক জানান, অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত চলছে। অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) বুলবুল আহমেদ বলেন, প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।