আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বগুড়া জেলায় নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও জেলা প্রশাসনের মূল্যায়নে জেলার সাতটি সংসদীয় আসনের অর্ধেকেরও বেশি ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে নির্বাচনকে শান্তিপূর্ণ রাখতে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থার পরিকল্পনা নিয়েছে প্রশাসন।
নির্বাচন সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, বগুড়া জেলায় মোট ৯৮৩টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর মধ্যে প্রায় ৫০০টি কেন্দ্রকে বিভিন্ন মাত্রার ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। এসব কেন্দ্রের মধ্যে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কেন্দ্রকে অধিক গুরুত্বপূর্ণ বা উচ্চ ঝুঁকির আওতায় রাখা হয়েছে, বাকিগুলোকে সাধারণ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। অবশিষ্ট কেন্দ্রগুলোকে তুলনামূলক নিরাপদ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
বগুড়া জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা বিশ্লেষণ, অতীতের সহিংসতার রেকর্ড, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং ভৌগোলিক অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে এই শ্রেণিবিন্যাস করা হয়েছে। জেলা পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আতোয়ার রহমান বলেন, প্রতিটি কেন্দ্রের পরিস্থিতি আলাদাভাবে পর্যালোচনা করেই ঝুঁকির মাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
উপজেলাভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণে দেখা গেছে, শাজাহানপুর উপজেলায় ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। সেখানে অধিকাংশ কেন্দ্রকে উচ্চ ঝুঁকির তালিকায় রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, গাবতলী উপজেলায় ঝুঁকির মাত্রা তুলনামূলক কম বলে জানিয়েছে পুলিশ। বগুড়া সদরসহ কয়েকটি উপজেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ ও অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত রয়েছে।
জেলা নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়ার সাতটি আসনে মোট ভোটার সংখ্যা প্রায় ৩০ লাখের কাছাকাছি। নারী ভোটারের সংখ্যা পুরুষের তুলনায় কিছুটা বেশি। ভোটগ্রহণ কার্যক্রম পরিচালনার জন্য নির্ধারিত হাজার হাজার ভোটকক্ষের একটি অংশ অস্থায়ীভাবে নির্মাণ করা হচ্ছে।
নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য করতে অধিক ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ, র্যাব, আনসার ও সেনাবাহিনী মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন ও ভ্রাম্যমাণ টহল জোরদার করা হবে। জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিম জানিয়েছেন, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে কোনো ধরনের অনিয়ম বা সহিংসতা বরদাশত করা হবে না এবং কঠোর নজরদারির মধ্যেই ভোটগ্রহণ সম্পন্ন করা হবে।